‘জ্বলবে আগুন’ স্লোগান ছিল, জ্বললো কই: শেখ সেলিম

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জোরাল প্রতিবাদ না হওয়ায় দিকটি তুলে ধরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মুখের স্লোগান কাজে দেখানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মঙ্গলবার দল আয়োজিত আলোচনা সভায় স্লোগান শুনে এই প্রত্যাশা জানান তিনি।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন নেতার বক্তব্যের আগে ক্ষমতাসীন দলটির উপস্থিত নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিচ্ছিল- ‘শেখ হাসিনার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’।

এই স্লোগানের মধ্যে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে শেখ সেলিম বলেন, “শেখ হাসিনার কিছু হলে সারা বাংলায় আগুন জ্বলবে, বঙ্গবন্ধুর সময় হয়েছিল? বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হল, কিন্তু দুঃখের ব্যাপার বলতে হয়, পাশে ইকবাল হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, এফ রহমান হল, এস এম হল; এই হলগুলোতে আগের দিন রাত ১২টা-২টার পরও খুব জমজমাট, এত বড় নেতার ঘটনা ঘটল, হল থেকে কোনো ছাত্র আসলো না।

“যদি ওই দিন কোনো লোক আসত, যদি একটা প্রসেশন করত, তাহলে ওই খুনিরা পালানোর মতো জায়গা পেত না। এটা হলো আমাদের দুর্ভাগ্য!”

“আজকে আবার মিছিল হচ্ছে- শেখ হাসিনার কিছু হলে সারা বাংলায় আগুন জ্বলবে। বঙ্গবন্ধুর সময় হয়েছিল? স্লোগান দেবেন না, বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির উপর পড়ে ছিল। এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। এটা দুঃখে বললাম,” বলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ সেলিম।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন বড় মেয়ে শেখ হাসিনা, হাল ধরেন আওয়ামী লীগের।

শেখ সেলিম বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে নানা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও ষড়যন্ত্র হয়েছে। জিয়াউর রহমান চায়নি শেখ হাসিনা দেশে ফিরুক।”

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, “১৯৮১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকন্য শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যত দিন শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে প্রভা সারা পৃথিবীকে আলোকিত করবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।”

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এক সময় বাংলাদেশ ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন বলেই তিনি অন্ধকারকে আলোকিত করতে পেরেছেন।”

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য শাজাহান খান বলেন, “শেখ হাসিনা এই দেশে এসেছেন বলেই পদ্মা সেতু করা সম্ভব হয়েছে। তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। আমি বলব, আপনি এবং আপনার দলের নেতারা কোন লজ্জায় পদ্মা সেতু পার হবেন। আপনারা পদ্মা সেতু দিয়ে পার হবেন না, আপনাদের জন্য নিচ দিয়ে নৌকা রেখে দেয়া হবে। আপনারা নৌকা দিয়ে পার হবেন।”

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান জয় বাংলাকে নিষিদ্ধ করেছিল, ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে বাধা দিয়েছিল। সকল বাধা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের মুক্তির দুত হিসেবে বাংলাদেশে পদার্পন করেন।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনার আগমনের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকেও চাপ তৈরি হয়েছিল জিয়াউর রহমানের উপর। তৎ-প্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমান আমাদের নেত্রীকে আসতে দিতে বাধ্য হয়েছিল। গত ৪১ বছরের পথ চলায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ঝ্ড়, বৃষ্টি, আঁধার সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ছিলেন, আছেন।”

‘এক-এগারোর কুশীলবদের মুখে জাতীয় সরকারের কথা’

সাংবিধানিক সরকারকে উৎখাত করে সর্বদলীয় সরকার গঠনের কথা যারা বলছেন, তারা অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

মঙ্গলবারের সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “এখন অনেকেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করে অসাংবিধানিক একটি সরকার গঠন করার। সর্বদলীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এরা করা? এরা এক-এগারোর কুশীলব। যারা কখনও জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারবে না, তারাই অশুভ পথ খুঁজে বেড়ায়।

“আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী থাকতে এই দেশে কেউ অশুভ পন্থায় ক্ষমতায় যেতে পারবে না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের অনুরোধ করবো, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। জনগণ যদি সেটা চায়, তাহলে ক্ষমতায় যেতে পারেন।”

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে আর কখনও অসাংবিধানিক সরকার হবে না। সংবিধানসম্মত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে

“নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জাতীয় সরকারের নামে যারা আজকে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, শেখ হাসিনার একজন কর্মী বেঁচে থাকতে আপনাদের রাজপথ দখল করতে দেব না।”

নানক বলেন, “গণতন্ত্র নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। চোরাপথে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা হলে, প্রতিহত করা হবে। কোনো অন্ধকার গলির সরকারের ভূত, কোন ফর্মূলা দিয়ে থাকলে, সেই পথও এই জয়বাংলার কর্মীরা প্রতিহত করবে।”

রাজ্জাক বলেন, “অতীতেও আমরা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছি। আগামী দিনেও তাদের মোকাবেলা করবো। বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন।”