বিএনপির নেতৃত্ব কোথায়, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

সবাই সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় বিএনপির নেতৃত্ব কোথায় প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাদের আমলে নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত হয়েছে যে তাদের এ নিয়ে কথা বলার অধিকারই নেই।

বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার এখানে একটা প্রশ্ন আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিএনপির আমলে নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে তাদের তো এ নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকারই নাই, কোন মুখে তারা বলে?”

সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে নেওয়া সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের নির্বাচনকে কলুষিত করা শুরু করেছিল উল্লেখ করে তার হাতে তৈরি দলটি নির্বাচন নিয়ে কোন মুখে প্রশ্ন তুলছে তাও জানতে চেয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “নেতৃত্ব নাই। সবাই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচন করে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনেই তো তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। কলুষিত করতে চায়।“

বিএনপি আমলে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঢাকা ১০ এ ফালু ইলেকশন করেছিল সেদিনের ইলেকশনের চিত্র সবারই মনে আছে, মাগুরা ইলেকশন- যে ইলেকশন নিয়েই আমরা আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে উৎখাত করলাম। মিরপুরের ইলেকশন, প্রত্যেকটা সময়েই তো আমরা দেখেছি তাদের ইলেকশনের চিত্র। আর এমনি তো সেই ‘৭৭ এ হ্যাঁ না, ‘৭৮ এ রাষ্ট্রপতি, ‘৭৯ তে সাধারণ নির্বাচন, ‘৮১ এর নির্বাচন। প্রত্যেক নির্বাচন তো আমাদের দেখা। ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।”

নির্বাচনে এত ‘কলুষিত রেকর্ড’ যাদের, তাদের মুখে এখন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন- মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “আজকে নির্বাচনে যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি সেগুলো আমাদেরই সিদ্ধান্ত, আমাদেরই চিন্তা। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ইভিএম এটা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ব্যবহার এ সবকিছু তো আমরা এবং নির্বাচনে যাতে মানুষ ভোট দেবার অধিকারটা পায় সেই অধিকারটাই তো সব থেকে বড়। সেটাই আমরা করতে চেয়েছি।“

তিনি বলেন, “কাজেই এটা নিয়ে তো তাদের প্রশ্ন তোলার কোনো অর্থই হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রিক অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে।

“এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় শক্তি। আর সেই শক্তিটা আছে বলেই এবং জনগণের শক্তিতে আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পেরেছি।“

১৯৮১ সালে দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গেলে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। জিয়ার দলেরই জিয়ার সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিল বিচারপতি সাত্তার। সে প্রার্থী। সেই নির্বাচনের যেই চিত্র আমরা দেখেছিলাম সেখানে কোনো ভোটের দরকার ছিল না, কোনো ভোট হয়নি।“

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সামরিক শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল, সংবিধান লঙ্ঘন, প্রহসনের নির্বাচন, দলগঠনের সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন।

“প্রথমে জাগো দল, তারপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং এরপরে তৃতীয় ধাপে এসে বিএনপি সে গঠন করে,” যোগ করেন তিনি।

বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধী, খুনী এবং আওয়ামী লীগের কিছু ‘বেঈমানও’ সেখানে যুক্ত হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খন্দকার মুশতাকও চেষ্টা করেছিল এই দল (আওয়ামী লীগ) ভাঙতে। কিন্তু সেও খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি এরপর জিয়াউর রহমান।“

ওই সময়ের নির্বাচনগুলোতে জিয়ার ‘প্রহসনের’ কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন,

“মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া এবং মার্শাল ল দিয়ে রাষ্ট্র চালানো। প্রতি রাতে কারফিউ।“

সেই সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকতো এবং ‘৭৫ এর পর যে কারফিউ দেওয়া শুরু হয়েছিল সেটা ‘৮৬ সালে এসে প্রত্যাহার হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এটাই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। কোনো মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না।“

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের বাংলাদেশে আমরা ২০০৯ এর পরে যে সরকার গঠন করেছি তারপরেও আমাদের কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে, পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তাঘাট বানাই, তারা রাস্তা ঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপণ করি, তারা গাছ কাটে।“

এভাবে বিএনপি দেশকে বারবার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবং সরকার উৎখাত করার তারা উদ্যোগ নিয়েছে।“

“সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া। ২০০৭ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল জীবনে কোনদিন রাজনীতি করবে না- এ মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায়। সেই বিচারের মামলার রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।

“যাই হোক কারাগার থেকে এখন বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, অসুস্থ সেজন্য। এইটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে বারবার তাকেই আমি এই করুণা ভিক্ষা দিয়েছি যে- সে এখন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও এইটুকু সুযোগ তাকে আমরা দিয়েছি। এটা নির্বাহী আদেশেই দেয়া হয়েছে।“

সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে এসময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।