কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: ‘বিদ্রোহী’ ইমরানকে বোঝাতে বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও তার বোন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে নিয়ে এই বৈঠকে হবে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আজ সন্ধ্যা ৭টায় ইমরান ও সীমা আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। আমরা যারা এই নির্বাচনের দায়িত্বে আছি, তারা বৈঠক করব দুজনের সঙ্গে। সমঝোতা বলেন, নিজের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের পথ বলেন, সেটা বের করা হবে। আশা করছি, আজকের পরে কুমিল্লায় আর দলীয় কোনো সমস্যা থাকবে না।”

আসছে ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কুমিল্লা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি বরাবরই দুটি বলয়ে বিভক্ত; এক অংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজল খান, অপরপক্ষে রয়েছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

ইমরান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত আফজল খানের ছেলে; আর রিফাত কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ইমরানের বিদ্রোহ: ‘পাত্তা দিচ্ছেন না’ রিফাত  

২০১২ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়েছিলেন আফজল খান নিজে। সেবার তিনি বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর কাছে হেরে যান। সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। আফজল খান পান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।

এরপর ২০১৭ সালে মেয়র পদে প্রার্থী হন আফজল খানের মেয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সে নির্বাচনেও সাক্কু ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীক নিয়ে সীমা পান ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

এ দুটি নির্বাচনে দলীয় ‘বিভেদের প্রভাব’ পড়েছিল বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এরপর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামী লীগ বাহাউদ্দিন বাহারকে মনোনয়ন দিলে তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আফজল খানের ছেলে ইমরান। সেই নির্বাচনে জয়ী হন বাহার।

দীর্ঘদিনের এই দলীয় বিভেদ এবারের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের ধারণা, এর নিরসন না হলে সিটি করপোরেশন জয় করা কঠিন হবে এবং ‘পুরনো সংকটের বৃত্তেই’ আটকে থাকবে দল। যার সুবিধা নেবে তৃতীয় কোনো প্রার্থী।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আমরা গতবারও হেরেছি। এখানে নিজের দলের একাদিক প্রার্থী থাকুক সেটা আমরা চাই না। আশা করছি এবার বিপুল ভোটে জয় পাব। এজন্যই নিজেদের মধ্যে কোন বিরোধ না রেখে নির্বাচনটা করতে চাই।”

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মেয়র পদে ছয়জন প্রার্থী। ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ১০৫ কেন্দ্রের ৬৪০টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে।