কুমিল্লার ‘বিদ্রোহী’ ইমরান ‘ছাড়ছেন’ ভোটের মাঠ

ওবায়দুল কাদের ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান (ডানে)।
ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানকে রাজি করিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর ফলে ওই নগরীতে ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে থাকবেন আরফানুল হক রিফাত। যিনি নৌকা প্রতীকে আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগ কুমিল্লায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে ওই নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিফাতকে মনোনয়ন দিলে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য ইমরান।

তাই তাকে ভোটের মাঠ থেকে সরাতে মঙ্গলবার ঢাকায় ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ বাহাউদ্দিন নাছিম ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

কুমিল্লার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আফজল খানের ছেলে ইমরানের সঙ্গে এই বৈঠকে তার বোন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমাও অংশ নেন।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে, ইমরান বসে যাবে।”

ইমরান সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

পরে বাহাউদ্দিন নাছিম সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ত্যাগী পরিবারের সদস্য ইমরান ও সীমা। তারা দুই ভাই বোন আজকে এসেছে, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাদের বুঝিয়েছি দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে। ইমরান আমাদের কথা দিয়েছে, সে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে আগামী ২৬ তারিখ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে।”

“আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলাম, তাদের প্রাপ্য সম্মানটা দিলে তারা স্বাচ্ছন্দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে। তারা দলের নীতি-আদর্শের জন্যে যে কোনো ছাড় তারা দেবে,” বলেন নাছিম।

কুমিল্লা সিটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইমরানের প্রার্থিতা বৈধ  

ইমরানের বিদ্রোহ: ‘পাত্তা দিচ্ছেন না’ রিফাত  

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই দুটি বলয়ে বিভক্ত; এক অংশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আফজল খান, অন্যপক্ষে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, যিনি এখন কুমিল্লার সদরের সংসদ সদস্য।

২০১২ সালে কুমিল্লার প্রথম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়েছিলেন আফজল খান নিজে। সেবার তিনি বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর কাছে হেরে যান। সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। আফজল খান পান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।

এরপর ২০১৭ সালে মেয়র পদে প্রার্থী হন আফজল খানের মেয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সে নির্বাচনেও সাক্কু ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীক নিয়ে সীমা পান ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

এবার আফজল পরিবারকে বাদ দিয়ে বাহারের অনুগত হিসেবে পরিচিত রিফাতকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করলে বেঁকে বসেন কুমিল্লার ব্যবসায়ী নেতা ইমরান। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিলে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়ে।

তাই ইমরানকে বসাতে উদ্যোগী হয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

কুমিল্লার বিদায়ী মেয়র সাক্কু এবারও প্রার্থী হয়েছেন। তবে এবার তিনি বিএনপির বদলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।

স্বতন্ত্র লড়বেন সাক্কু