পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে ‘অপপ্রচারকারীদের’ ক্ষমা চাওয়া উচিৎ: হাছান

পদ্মা সেতু নিয়ে ‘অপপ্রচারকারীদের’ জাতির সামনে ক্ষমা চেয়ে সেতুতে উঠতে বললেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার ঢাকার মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “মির্জা ফখরুল, বেগম খালেদা জিয়া, সিপিডি, টিআইবিসহ তাদের নানামুখী অপতৎপরতা ও বিরূপ মন্তব্য এবং আরও অনেক ব্যক্তিবর্গ আছেন, যারা পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করার জন্য হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে এমনকি বিশ্ব ব্যাংককে ই-মেইল করে চিঠি দিয়েছিলেন।তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ও অপতৎরতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে।

“এই সেতু বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য। তবে যারা এই অপপ্রচারগুলো করেছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি বলব, ক্ষমা চেয়ে তারা পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যেতে পারে।”

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্যই নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে যে আমরা এমন একটি সেতু নির্মাণ করতে পারব, সেটি বিশ্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে- কেউ ভাবতে পারেনি। তারা মনে করেছিল যে, বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে এই সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা সম্ভব নয়।”

শুরুতে অর্থায়ন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংক অনেক প্রশ্ন করেছিল, তারাই কানাডার আদালতে মামলা করেছিল, বাংলাদেশ সরকার করে নাই। তারাই হেরে গেছে। হেরে গিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এখানে দুর্নীতি বা দুর্নীতির চেষ্টা- কিছুই হয়নি।

“এরপর পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের সেই অর্থের দরকার নাই। আমরা গ্রহণ করি নাই।”

পদ্মা সেতু যাতে না হয় সেজন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক নেতারা ‘লাফালাফি’ করেছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “আবার টিআইবিসহ আরও কয়েকটি সংস্থা…সুজন, সিপিডি…সবাই যেভাবে লাফালাফি করেছিল, সমালোচনা করেছিল, তাদের আসলে ক্ষমা চাওয়ার আগে পদ্মা সেতুতে ওঠার অধিকার আছে কি না জনগণ জানতে চায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাদের যে অপপ্রচার, মিথ্যা ভাষণ এবং দেশবিরোধী তৎপরতার জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক বক্তব্য এবং এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সম্পাদক বলেন, “বিএনপির শাসনামলে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে অনেকবার হত্যার অপচেষ্টা হয়েছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আল্লাহর অশেষ রহমতে এতো ষড়যন্ত্র, হামলা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

“..প্রতিহিংসার রাজনীতি আমাদের নেত্রী করেন না। করলে খালেদা জিয়ার তো বাইরে থাকার কথা না। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী ক্ষমতা বলে খালেদা জিয়াকে জেলের বাইরে রেখেছেন। মির্জা ফখরুল সাহেবরা সন্ত্রাসের রাজনীতি, মেরে ফেরার রাজনীতি করেন। তাদের এসব কথা না বলে জাতির কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে যে বক্তব্য করেছে, সেজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”