জামায়াত ও ইসলাম এক নয়: খেলাফত মজলিস

জামায়াতে ইসলামী আর ইসলামকে সমার্থক না ভাবতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলনের দাবির সঙ্গে অমত নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে ব্লগে ইসলাম ধর্ম এবং আলেমদের নিয়ে বিতর্কসূচক লেখায় নিজেদের ঘোর আপত্তির কথা তুলে ধরেছেন আব্দুল কাদের।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে দেশব্যাপী গণজাগরণে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি ওঠার পর শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ইসলামী কয়েকটি দলের কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে খেলাফত মজলিস।

বিজয় নগরে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ও ইসলাম এক জিনিস নয়। দয়া করে আপনারা (সাংবাদিক) এটাকে এক করবেন না।”

একদিন আগে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মুজিবুর রহমান হামিদী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের প্রশ্নই আসে না। আমরা জামায়াতকে যতটুকু ঘৃণা করি আওয়ামী লীগও ততটুকু ঘৃণা করে না।

“আমরা জানি জামায়াতের সঙ্গে ইসলামের কোথায় বিরোধ। এটা আমরা আমাদের অন্তর দিয়ে বুঝি।”

খেলাফত মজলিস যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শাহবাগের গণজাগরণের বিরুদ্ধে নই।

“কিন্তু যেসব ব্লগার ইসলাম ও আলেমদেরকে বিতর্কিত করেছেন, আমরা সেই ব্লগারদের বিরুদ্ধে।”

আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন।

শাহবাগে ‘অনৈসলামিক’ কাজ চলছে বলে জামায়াতকর্মীদের প্রচারের পর গত শুক্রবার খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি ইসলামী দল জুমার নামাজের পর মিছিলের কর্মসূচি দেয়।

ওই কর্মসূচি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণজাগরণ মঞ্চ ভাংচুর হয়, ওই সময় জাতীয় পতাকা ছেড়া ও শহীদ মিনার ভাংচুর হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন চারজন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ও কাঁটাবন মসজিদেও একদল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।  

পুলিশ ও গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তাদের দাবি, ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে জামায়াতে ইসলামীই এই তাণ্ডব চালিয়েছে। 

আবদুল কাদের বলেন, “জাতীয় পতাকা আমাদের গর্ব। জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় খেলাফত মজলিস তীব্র নিন্দা জানায়।”

শুক্রবারের সংঘর্ষে খেলাফতের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন দাবি করে তিনি বলেন, “খেলাফত মজলিস এটা করেনি। তবে অনুপ্রবেশকারী কেউ এটা করতে পারে।”

শহীদ মিনার ও জাতীয় পতাকা অবমাননায় খেলাফতের কেউ জড়িত নন দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা (সাংবাদিকরা) এটা করবেন না, সত্য কথা লিখুন ও বলুন।”

সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশে আটক মুসল্লি ও আলেমদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

মানিকগঞ্জে রোববার পুলিশের গুলিতে পাঁচজনের প্রাণহানির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন আবদুল কাদের। ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মুনতাসির আলীও উপস্থিত ছিলেন।