ভ্রমণ কাহিনি: বনগোলাপের দেশে

কানাডার দশটি প্রভিন্স আর তিনটি টেরিটোরির প্রতিটির একেকটি বিশেষ স্লোগান আছে, আর সেগুলো পাওয়া যায় গাড়ির নাম্বার প্লেটে। যেমন আমাদের সাস্কাচুয়ানের নাম্বার প্লেটে লেখা থাকে ‘ল্যান্ড অব লিভিং স্কিজ’।

কী সুন্দর আর কাব্যিক, তাই না! শুধু তাই নয়, প্রতিটি স্লোগানের পেছনে সেই রাজ্যের মূল বৈশিষ্ট্যের কোন একটি প্রধান উপাদান লুকিয়ে থাকে। তাই যখন প্রথমবার অ্যালবার্টার সীমানায় ঢুকে ওদের গাড়িগুলোর পেছনে লেখা দেখলাম ‘ওয়াইল্ড রোজ কান্ট্রি’, তখন একটুও অবাক হলাম না। কারণ সত্যিই ওদের পথে ঘাটে দেখতে পাওয়া যায় নানা বর্ণের, নানা আকারের বুনো গোলাপ। বনগোলাপের দেশ বলতে হলে এ-ই।

প্রথমবার যাই ক্যালগেরি ২০১৫ এর সামারের ছুটিতে। উদ্দেশ্য আমাদের তিনজনের বেড়ানো। ২০১৩তে রিজাইনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর কাজ নিয়ে মিসিসাগা থেকে রিজাইনা আসি। স্বাভাবিকভাবে ওই সামারে নিজেদের থিতু করা ছিল মূলকাজ। ২০১৪তে দেশে যাওয়া হল, তাই ২০১৫-তে ভাবলাম এবার এমন কোথাও যাওয়া যাক যেখানে প্লেন ভাড়া লাগবে না, গাড়ি করে নিজেদের মত যাওয়া যাবে।

২০১৫-তে প্রথমবারের মত গাড়ি নিয়ে বেরোতে চাওয়ার পেছনে আরেকটা কারণ ছিল, সে বছর জুলাইতে আমরা এদেশের নাগরিকত্ব পাই, আর পাই সাস্কাচুয়ান পলিটেকনিকে আমার ফুলটাইম টিচিং কন্ট্র্যাক্ট। এই দুইকে উপলক্ষ্য করে বেড়ানোটা ছিল আমাদের সেলিব্রেশন। মেয়ে বলল- ক্যালগেরি যাব।

তো চল ক্যালগেরি!

‘ক্যালগেরি’ শব্দটি এসেছে সেই সুদূর স্কটল্যান্ড থেকে। এর অর্থ স্বচ্ছ জলধারা (ক্লিয়ার রানিং ওয়াটার), তবে পরবর্তিতে এর অর্থ করা হয় উপসাগরীয় খামারবাড়ি (বে ফার্ম)। আমার কিন্তু প্রথমটা ভাল লাগে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, অ্যালবার্টা প্রভিন্সের নামকরণ হয়েছিলো মহারানি ভিক্টোরিয়ার চতুর্থ সন্তান রাজকন্যা লুইস ক্যারোলাইন অ্যালবার্টার নামানুসারে।

আমার কাছে বেড়ানো মানে আরাম করা, একটু নিঃশ্বাস ফেলা। তাই আমি খুঁজে নিলাম একটা চলনসই হোটেল যাতে আবার সকালের নাস্তাটা প্রতিদিনের ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত। সেটা তিনজনে পেট ভরে খেয়ে নিতাম যেন ততটা খিদে না পায়, আর পেলেও যেন অল্প কিছুতে কাজ চলে যায়। আর রাতের খাওয়া বাইরে খেতাম। এখনও কোথাও বেড়াতে গেলে আমি তাই করি। দেশের বাইরে যারা আছি, তারা অনেকে সঙ্গে করে খাবার নিয়ে যান আমি জানি। তাতে খরচ কমে এও জানি। কিন্তু ওই যে বললাম আরাম! একেতো আমি রান্না করি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, তার উপর আমি যে সময়ে রান্না করব বা খাবার বানাবো, সেই সময়টাতে বরং একটা বই পড়তে পারলে বাঁচি। তাই বেড়ানোর সময়ে এক ফলমূল ছাড়া অন্য রান্না খাবার নেব আমি? নৈবচ!

রিজাইনা থেকে ক্যালগেরি টানা ৭.৫ ঘণ্টার পথ। তাই থেমে থেমে বিশ্রাম নিয়ে যাওয়া। তাছাড়া সেটা ছিল পিনুরও কানাডায় প্রথম এতদূরের ড্রাইভ। তাই আমাদের সতর্কতা ছিল বেশি। পৌঁছতে তাই সন্ধ্যা হয়ে গেল। তবে গরমের দিন বলে রাত ৯টার আগে তো অন্ধকার হয় না, তাই রক্ষা। কেন রক্ষা বলছি? কারণ, পুরো পথ জুড়েই একটু পর পর দেখি সতর্কবার্তা- সামনের ৫ কিলোমিটার হরিণ কিংবা সামনের ২০ কিলোমিটার মুজদের এলাকা। সাবধানে চালাও!

আমরা আগেই শুনেছি যে এরা মাঝে মাঝে পাড়া বেড়াতে বের হন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। আর একবার সামনে পড়লে ভয় পেয়ে ওরা দাঁড়িয়েও পড়তে পারে বা আক্রমণও করতে পারে। তো ওদের দেখা না পাওয়াই শ্রেয়। এখন পর্যন্ত পাইনি, তবে ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে?

পথ চলতে চলতে সেই প্রথম জানলাম প্রেয়ারি কাকে বলে! এমন মন-কেমন-করা ধূ ধূ বিস্তীর্ণ দশদিক খোলা প্রান্তর আগে কখনো দেখিনি, দেখবো বলে ভাবিনি। যতদূর দৃষ্টি চলে শুধু সবুজের নানা রকমফের। আর যেখানে সবুজের শেষ, ঠিক সেখানেই শুরু দিগন্তজোড়া নীল আকাশ, যেন এক আদি অন্তহীন সমুদ্র, যার মাঝে মাঝে ভেসে বেড়ায় নানা রঙের মেঘের ভেলা।

সকালে যে মেঘ হালকা ছাই ছাই সাদা, দুপুরের মধ্যেই তা যেন রোদের আদরে হয়ে ওঠে তপ্ত সাদা। এত ঝকঝকে যে তাকালে তার রূপে চোখ ঝলসে যায়। আবার বিকেলের মন্দ বাতাস যেন তাদের করে তোলে উদাসী, নরম সাদা। আর যখন আসে সূর্যডোবার পালা তখন সেই সাদা মেঘগুলোই কখন যে রূপ নেয় কনে বৌ-এর রঙিন আঁচলে, সে বোঝা ভার। সন্ধ্যার সেই কনে-দেখা-আলোয় সারা পৃথিবীই যেন বদলে যায়। হয়ে ওঠে আরও অপরূপ।

টেলাস সায়েন্স সেন্টারের একাংশ

রাতে পৌঁছলেও হোটেলটা ভাল ছিল। তাছাড়া পথে খেয়ে আসায় আর বাইরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। তাই আরামদায়ক বিছানায় তোফা একটা ঘুম দিয়ে পরদিন সকাল থেকে শুরু হল আমাদের বেড়ানো। খেয়ে দেয়ে বেরিয়ে গেলাম টেলাস স্পার্ক সায়েন্স সেন্টারে। ১৯৬৭ সনে এর নাম ছিল ক্যালগেরি সেন্টেনিয়াল প্ল্যানেটারিয়াম। এটাই ২০১১-তে টেলাস কর্পোরেশনের ৯ মিলিয়ন ডলারের বদান্যতায় নাম-রূপ সব পাল্টে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে। এখানে দেখলাম অনেক পরিবার সারাদিনের জন্য আসেন। পরে বুঝলাম যে এর ভেতরে যতরকম ইন্টার‍্যাক্টিভ আর শিক্ষামূলক বিষয় রয়েছে, তার মজা ঠিকঠাক পেতে হলে পুরো একটা দিন লেগেই যায়।

সেই মজা পাবার জন্য এখানে বছরে গড়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার দর্শনার্থী আসে পুরো কানাডা থেকে। আমাদের কন্যাটি নিজের মত যা যা ভাল লাগে দেখলো, করলো। আর আমরা ওর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখলাম। কিছু মজাতে অবশ্য আমরাও যোগ দিতে পেরেছিলাম।

সেদিন আর কোথাও যাইনি কারণ রাতে ক্যালগেরি টাওয়ার-এর একদম ওপরে ‘স্কাই ৩৬০’ রেস্তোরাঁয় ডিনার রিজার্ভেশন ছিল আমার জন্মদিন উপলক্ষ্যে। সেখানে যাবার আগে হোটেলের পুলে তিনজনে একটু নামলাম, এরপর রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে আবার তৈরি হয়ে চললাম ডাউনটাউন। উইক এন্ড বলে পার্কিং পাওয়াটা একটু কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত যখন পার্কিং করে উপরে উঠলাম, আমাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসে বাইরে তাকাতেই মনটা ভাল হয়ে গেল। পুরো ক্যালগেরি আমাদের চোখের সামনে!

রেস্তোরাঁর গল্প বলার আগে ক্যালগেরি টাওয়ারের গল্পটা বলে নিই। ৬২৬ ফুট উঁচু এই স্থাপনাটি তৈরি হয় ১৯৬৭ সনে ক্যানাডার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে। টাওয়ারটি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে ১৫ মাস, এবং ওই সময়েই খরচ হয় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার। ১৯৮৭-তে আরো প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে টাওয়ারটির ‘আপার ডেক’ এ তৈরি হয় একটি স্যুভেনির স্টোর এবং এই ‘স্কাই ৩৬০’ রেস্তোরাঁ। এর নামের সঙ্গে ৩৬০ থাকার কারণ হল যে এই রেস্তোরাঁটি প্রতি ৪৫ মিনিটে পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে আসে। আর ওখানে ডিনার বা লাঞ্চ খেলে সঙ্গে অবসারভেশন ডেকে যাওয়া ওদের পক্ষ থেকে উপহার- অর্থাৎ কিনা, এমনি যেতে চাইলে টিকেট কিনতে হবে, না হলে ওই রেস্তোরাঁয় খেতে হবে। তো, আপনাকে বুঝে নিতে হবে কোনটা আপনার জন্য।

ক্যালগেরি টাওয়ার থেকে রাতের শহর

অন্যসময় হলে আমি শুধু টিকেট কিনে উপরে যেতাম, কিন্তু সেবারকার কথা আলাদা! খাবারের দাম? অন্য যে কোনো ভাল রেস্তোরাঁর মতই। সুতরাং, তেমন উপলক্ষ্য থাকলে বছরে দু-একবার যাওয়াই যায়। কিন্তু সত্যি বলতে কি, খাবারের চেয়ে ওই উঁচু থেকে পুরো শহর দেখার আনন্দই আলাদা। এত সুন্দর ভিউ তো সবসময় চাইলে পাওয়া যায় না। তার ওপর আবার রাতের ক্যালগেরি। সে এক অন্যরকম রূপ, অতো উপর থেকে যে কোনো শহর সুন্দর লাগে, আর ক্যালগেরির মত জমজমাট হলেতো কথাই নেই। দেখে মনে হচ্ছিল পুরো শহর যেন হীরে, চুনি, পান্না দিয়ে গড়া অলঙ্কারে সেজেছে রানির সাজে। এত ঝলমলে, এত উজ্জ্বল।

পরদিন আমাদের শেষ দিন এখানে। সেদিনের গন্তব্য ক্যালগেরির আরেকটি বিখ্যাত জায়গা- ক্যালগেরি চিড়িয়াখানা। ক্যালগেরি এসে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানায় যাবে না, বিশেষ করে সঙ্গে বাচ্চা থাকলে, এমন লোক আছে কিনা সন্দেহ। সেদিনটা ভারি রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল। গরমও ছিল বেশ। তবে ওখানে ঢুকে প্রথমে পেঙ্গুইনদের দুষ্টুমি আর খেলা দেখে গরমটা যেন একটু কম লাগতে লাগলো। সেই পেঙ্গুইনগুলোর একটাতো হুবহু বাচ্চাদের সিনেমা ‘হ্যাপি ফিট’ এ দেখা লাভলেইস। মনে আছে রবিন উইলিয়ামসের গলায় শোনা সেই লাভলেইস আর র‍্যামন? যা হোক, এই প্রজাতিকে বলে ‘নর্দার্ন রকহপার পেঙ্গুইন’। ওই যে চোখের উপরে সোনালি আর কালো পালক যাদের।

আরও একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করলাম ওখানে। আমাদের দেশে যেমন রাস্তাঘাটেতো বটেই, চিড়িয়াখানাতেও অবাধে একসময় ঘুরে বেড়াতো চড়ুই আর কাক, এখানে দেখলাম ময়ূর! নিশ্চিন্তে, নির্ভাবনায় হেঁটে বেড়াচ্ছে চিড়িয়াখানার পথে। তারা যেমন কাউকে বিরক্ত করছে না, লোকজনও তাদের বিরক্ত করছে না। জেব্রা, জিরাফ, জলহস্তি, গণ্ডার, শজারু, ভালুক, উট, আমাদের দেশি ভাই রয়েল বেঙ্গল টাইগার পর্যন্ত আছে। সবই আগে দেখেছি, কিন্তু যেটা ভাল লাগলো সেটা হল যে এখানে এরা প্রাণীগুলোকে খুব যত্নে রাখে। সবগুলো প্রাণীই কী পরিষ্কার, তরতাজা, আর স্বাস্থ্যবান। ছোটখাট আকৃতির রেড পান্ডা দেখলেও আমাদের খুব ইচ্ছা ছিল চীনের জায়ান্ট পান্ডা দেখবার, কিন্তু ওদের এই নতুন অতিথি তখনও এসে পৌঁছয়নি। তবে তাদের আগমনের জন্য সাজো সাজো রবে তৈরি হচ্ছিল পুরো চিড়িয়াখানা।

চিড়িয়াখানায় খাবারের দামটা একটু বেশি হওয়াতে আমরা আর ওখানে কিছু খাইনি, তাই ওখান থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম এ শহরের বিখ্যাত শপিং মল চিনুক সেন্টারে। দেখাও হবে, খাওয়াও হবে। গিয়ে দেখি, সে এক এলাহি ব্যাপার! প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গফুটের এই শপিং মল কানাডার নবম বৃহত্তম, সুতরাং এর জাঁকজমক তো কিছু থাকবেই। আমাদের ছোট্ট শহরে এমন হৈ চৈ নেই, নেই এমন ঝকমকে শপিং মল। তাই তেমন কিছু না কিনলেও পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখতে সময় কেটে গেল।

এ শহরের আরেকটি মল ‘দ্য কোর শপিং সেন্টারের’ খুব নাম শুনেছিলাম আসবার আগে। হোটেলেও ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার জানালো যে এটা মিস করা ঠিক হবে না। তা বেশ। ঠিক করলাম যে পরদিন বাড়ি ফেরার পথে ওটা ঘুরে যাব। কথায় বলে- বেশি ভাল, ভাল নয়। পুরো বেড়ানোটা এত ভাল যাচ্ছিলো যে এই কথাটা ভুলে গেছিলাম। দ্য কোর মল মিস করবোনা বলে ঠিকঠাক পৌঁছলাম বটে, কিন্তু পার্কিং করলাম ভুল জায়গায়। সেটা অবশ্যই আমরা জানতাম না। একদিক থেকে কপাল ভাল যে হাতে বেশি সময় ছিল না বলে আমরা মিনিট ৫০ পর বেরিয়ে পড়ি। বের হবার সময় দেখি পে-পার্কিং, তখনই ভাবলাম, মলেতো সচরাচর পে-পার্কিং হয় না, কিন্তু কে জানে হতেও পারে। ও মা, দেখি ওইটুকু সময়ের জন্য ১৮টি ডলার কেটে নিলো! তখনতো আর কিছু করার নেই, কিন্তু পরে একটু অনলাইনে খোঁজ করতে বুঝলাম ওটা আসলে একটা অফিসের পার্কিং লট ছিল, সেই মলের নয়।

লাভলেইস বা নর্দার্ন রকহপার পেঙ্গুইন

অল্প দণ্ড দিয়ে ভাল একটা শিক্ষা পেয়েছি যে কোথাও যাবার আগে পুরো পরিকল্পনা করে নিতে হবে যাতে করে কোথায় যাব, কোথায় থাকবো, কী খাবো, কী কী দেখবো ইত্যাদি মোটামুটি যতটা পারা যায় জানা থাকে। না হলে একবার ১৮ ডলার দিয়েছি বলে পরেরবার যে আরও বেশি দিতে হবে না, তা কে বলতে পারে!

ক্যালগেরিতে পরে আরও গিয়েছি, আমার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বেড়ানো ছাড়াও গেছি নানা কনফারেন্স বা ট্রেইনিং-এ। কখনো হোটেল, কখনো পরিচিতদের বাড়ি থেকেছি। তবে প্রতিবারই আগে থেকেই ঠিক করা ছিল পুরো প্ল্যান। তবু সবমিলিয়ে বলতেই হবে যে আমাদের প্রথমবারের অ্যালবার্টা ভ্রমণ ছিল খুব ভাল। তা না হলে কি আর এতবার ফিরে ফিরে যাই! না, প্রতিবারই ক্যালগেরি নয়। এর পরেরবার গেছি লেক লুইস- পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর জায়গা। শীতে গেছি, গরমেও গেছি, তবু বারবার যেতে ইচ্ছে করে। লেক লুইসের গল্প নিয়ে আসবো পরে কখনো।

তবে যেখানেই যাই না কেন, আমাদের এই ছোট্ট শহরের এককোনায়, আমাদের তিনজনের এই ছোট্ট বাসাটিতে বারবার ফিরে আসাতেই যেন সুখ। ঘরে ফিরেই মনটায় যেন গুনগুনিয়ে ওঠে রবিঠাকুরের গান—

       ‘এই যে কালো মাটির বাসা শ্যামল সুখের ধরা

       এইখানেতে আঁধার-আলোয় স্বপন-মাঝে চরা।’

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!