নিউ ইয়র্কে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি কিশোরীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডে বাড়িতে আগুন লেগে বাংলাদেশি একটি পরিবারের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে; অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তার বড় ভাই, নানা ও নানি।

নাসাউ কাউন্টির চিফ ফায়ার মার্শাল মাইকেল উতারো জানান, শনিবার ভোরে এলমন্টের মার্শাল স্ট্রিটে প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে আগুন লাগে।

মোহাম্মদ আলীর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে রিফাত আরা আলী স্থানীয় একটি স্কুলের নবম গ্রেডে পড়ত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।

রিফাতের ভাই রাইম সাদমান জিম (১৭), নানা শামসুল হক (৮২) এবং নানী দিল আফরোজকে (৭১) নাসাউ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান।

তাদের মধ্য জিমের অবস্থা গুরুতর, তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। শামসুল হকের শরীরের ডান পাশ পুড়ে গেছে। আর দিল আফরোজ অতিরিক্ত ধোঁয়ায় সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন।

চিফ ফায়ার মার্শাল মাইকেল উতারো জানান, শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মোহাম্মদ আলীর বাসায় যান।

এছাড়া কাছাকাছি ফ্রাঙ্কলিন স্কয়ার, ফ্লোরাল পার্ক, সাউথ ফ্লোরাল পার্ক, স্টিয়ার্ট ম্যানর, লরেন্স, সিডারহার্স্ট, ভ্যালি স্ট্রিম, হিউলেট, লেইকভিউ, ম্যালভার্ন এবং মিনিয়লা থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা অ্যাম্বুলেন্স এবং পানিবাহী গাড়ি নিয়ে জড়ো হন।

জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি নিয়ে ওই এলাকায় একটি হেলিকপ্টারও সে সময় টহল দেয় বলে জানান ফায়ার মার্শাল।

পরে গুরুতর অবস্থায় রিফাত, জিম, শামসুল হক এবং দিল আফরোজকে বাসার ভেতর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

টানা ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মকর্তা। তাদেরকেও একই হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার মার্শাল উতারো।

অগ্নিকাণ্ডের সময় মোহাম্মদ আলী কাজে ছিলেন। তার স্ত্রী সামিনা শামস আলীও ভোর সাড়ে ৪টায় কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা ছাড়েন। আধ ঘণ্টা পর টেলিফোনে তারা বাড়িতে আগুন লাগার কথা জানতে পারেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ওজোনপার্কে এক পারিবারিক বন্ধুর বাসায় গিয়ে সামিনা শামসের সঙ্গে দেখা করেন ডেপুটি কনসাল জেনারেল নাজমুল হাসান।

মোহাম্মদ আলীর বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুরে। সামিনা শামসের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এই দম্পতি লং আইল্যান্ডের ওই বাড়িতে থাকছিলেন।

মেয়ে এবং দুই নাতিকে দেখার জন্য গত ২৫ জুলাই বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্কে যান সামিনার মা-বাবা। আগামী ২৫ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে আগুনে তাদের পাসপোর্ট পুড়ে গেছে।

কীভাবে আগুন লাগল তা ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা খতিয়ে দেখছে।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!