ক্রীড়াঙ্গনেও চলছে ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নাড়া দিয়েছে ক্রীড়াঙ্গনকে। দেশটির অনেক তারকা খেলোয়াড়ের পর এবার জার্মান বুন্ডেসলিগায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জেডন স্যানচো ও আশরাফ হাকিমি।

গত সোমবার মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড পুলিশ হেফাজতে মারা যান। একটা সময় বাস্কেটবল ও ফুটবল খেলতেন ফ্লয়েড।

হাতকড়া পরানো ফ্লয়েডের ঘাড়ে পুলিশের হাঁটু দিয়ে চেপে রাখার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে চার পুলিশকে বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ কিন্তু পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন।

ছাত্রজীবনে বন্ধুদের কাছে তুখোড় ফুটবলার ও বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদ হয়েছে পাডেরবর্ন-বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচে। রোববারের ম্যাচটিতে ৬-১ গোলে জয় পায় বরুশিয়া। জয়ী দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করা স্যানচো ও আরেক গোলদাতা হাকিমির জার্সির নিচের গেঞ্জিতে লেখা ছিল ‘জাস্টিস ফর জর্জ ফ্লয়েড’।

বরুশিয়ার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করা ২০ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার স্যানচো ও স্পেনে জন্ম দেওয়া হাকিমি, যিনি খেলেন পিতা-মাতার দেশ মরোক্কোর হয়ে, দুজনেই এদিন গোলের পর জার্সি উঁচিয়ে বুকের লেখা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন।

এর আগেও প্রতিবাদ হয়েছে বুন্ডেসলিগায়। আগের ম্যাচে ইউনিয়ন বার্লিনের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে গোলের পর এক হাঁটু মাটিতে ঠেকিয়ে প্রতিবাদ করেন বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরাসি তরুণ ফরোয়োর্ড মার্কাস থুরাম । আগের দিন ভার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারা ম্যাচে শালকের হয়ে ‘জাস্টিস ফর জর্জ’ লেখা বাহুবন্ধনী পরে খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার ওয়েস্টন ম্যককেনি।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক এনবিএ চ্যাম্পিয়ন স্টিভেন জ্যাকসন, লস অ্যাঞ্জেলসের তারকা ফরোয়ার্ড লেব্রন জেমস, সেরেনা উইলিয়ামস, টিনএজ টেনিস খেলোয়াড় কোকো গাউফসহ অনেকে।

এক টুইটে রোববার জেমস লেখেন “আমেরিকা কেন আমাদের ভালোবাসে না!!!???”

ঘটনার প্রতিবাদে ‍ষষ্ঠ দিনের মত রোববার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে, সহিংসতার মুখে অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি হলেও তা ভেঙে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা।

বিবিসি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলসে রোববার রাতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং দোকান লুটের ঘটনাও ঘটে।