কোয়ারেন্টিনে খেলোয়াড় বেড়ে ৭২, ক্ষুব্ধ অনেকে

টুর্নামেন্ট শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। একান্ত প্রয়োজন অনুশীলনের। তবে সহযাত্রীদের কয়েক জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় তাদের পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টিনে। হোটেল রুমের বাইরে বেরোনোর উপায় নেই। এভাবে পার করতে হবে ১৪ দিন! অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে মেলবোর্নে যাওয়াদের কারো কারো মন এরই মধ্যে বিষিয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, এতটা কড়া নিয়ম জানলে আসতেন না তারা।

কোভিড মহামারীর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অন্য দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর মাঝেও প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের লক্ষ্যে ১৫টি চার্টার্ড বিমানে করে টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট সবাইকে এত আগে মেলবোর্নে নেওয়া হচ্ছে।

সেখানেই বেঁধেছে বিপত্তি। তিনটি বিমানের মোট পাঁচ যাত্রীর করোনাভাইরাস রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ৭২ খেলোয়াড়কে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এতে নির্ধারিত সূচিতে টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানো নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। তবে টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর ক্রেইগ টাইলি জোর দিয়ে বলেছেন, সূচি অনুযায়ীই হবে টুর্নামেন্ট।

আগামী ৮ ফেব্রয়ারি মেলবোর্নে শুরু হওয়ার কথা বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম।

লস এঞ্জেলস ও আবু ধাবি থেকে আসা দুটি বিমানের চার জন যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার পর ৪৭ খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে শনিবার জানায় কর্তৃপক্ষ।

এরপর দোহা থেকে রোববার আসা আরেকটি বিমানের ৫৮ যাত্রীর একজনের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এই বিমানে খেলোয়াড় ছিলেন ২৫ জন। তবে আক্রান্ত যাত্রী খেলোয়াড় নন এবং বিমানে ওঠার আগে তার রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল বলে জানানো হয়েছে।

আগের ৪৭ জনের মতো এই ২৫ খেলোয়াড়কেও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে রোববার বিবৃতিতে জানায় টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কোয়ারেন্টিনের নিয়ম; কেউ হোটেল রুমের বাইরে বের হতে পারবেন না, করতে পারবেন না অনুশীলন।

বন্দিদশায় বিরক্ত হয়ে ওঠা খেলোয়াড়দের অন্তত তিন জন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন আফসোস করছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব নিয়ম তাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানালে তারা নাকি বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিতেন। ডব্লিউটিএ’র ৭১ নম্বর রোমানিয়ান সোরানা কির্সতেয়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাই লিখেছেন, “আগে তারা যদি আমাকে এই নিয়মের কথা বলতো তাহলে আমি অস্ট্রেলিয়ায় খেলতাম না। আমি বাড়িতেই থাকতাম।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, নিয়মের সবকিছু আগে থেকে পরিষ্কার করা হয়েছিল।

কেউ আক্রান্ত হননি, এমন সব বিমানে যারা এসেছেন তাদেরও ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে অনুশীলনের জন্য তারা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে হোটেলের বাইরে বের হতে পারবেন। এমন অবস্থায় আয়োজকদের নীতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

আগেই তিন সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়া আসরটি পরিবর্তিত সূচিতেও আয়োজন নিয়ে নতুন করে তাই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

টাইলি রোববার নাইন নেটওয়ার্ককে বলেন, সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট আয়োজনে তারা আশাবাদী। তবে কোয়ারেন্টিনে থাকা খেলোয়াড়দের সেরা সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন।

“এই খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে আমরা কী করতে পারি, তা দেখতে আমরা সময়সূচি পর্যালোচনা করছি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে এবং এই খেলোয়াড়দের সেরা সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লস এঞ্জেলস থেকে আসা বিমানের আক্রান্ত তিন যাত্রীর একজন ছিলেন ব্রডকাস্টার। অপর দুজনের একজন ক্রু, আরেকজন টেনিস কোচ। আর আবু ধাবি থেকে আসা বিমানের আক্রান্ত যাত্রী হলেন ২০১৯ ইউএস ওপেনে নারী এককের চ্যাম্পিয়ন বিয়াঙ্কা আন্দ্রেয়েস্কোর কোচ সিলভাইন ব্রুনো।