ব্রাজিল দলে ইপিএলের ৮ খেলোয়াড়

এইতো কদিন আগের ঘটনা-বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোয় খেলা ফুটবলারদের দলে ডেকেও পায়নি ব্রাজিল। সামনে আবারও আন্তর্জাতিক সূচি। গতবারের সমস্যা এবার থাকবে না, এই প্রত্যাশায় আসছে তিনটি ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ডে খেলা আটজনকে নিয়ে দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে।

কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী মাসে ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। এ জন্য শুক্রবার ২৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেন তিতে।

ইংল্যান্ডে থাকা আট খেলোয়াড় হলেন-লিভারপুলের আলিসন ও ফাবিনিও, ম্যানচেস্টার সিটির গাব্রিয়েল জেসুস ও এদেরসন, টটেনহ্যাম হটস্পারের এমেরসন রয়াল, চেলসির চিয়াগো সিলভা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্রেদ এবং লিডস ইউনাইটেডের রাফিনিয়া।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ‘লাল তালিকায়’ থাকা দেশগুলো থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরা সবাইকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকতে হবে বাধ্যতামূলক। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আছে এই তালিকায়।

সেক্ষেত্রে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে ফেরার পর এই দেশের খেলোয়াড়রা নিশ্চিতভাবেই মিস করবেন ক্লাবের কয়েকটি ম্যাচ। মূলত এ কারণেই দেশগুলোর খেলোয়াড়দের সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক সূচিতে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো।

ফিফার পক্ষ থেকে তখন ক্লাবগুলোর প্রতি খেলোয়াড় ছাড়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা মানা হয়নি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্রাজিল। প্রথম পছন্দের চার খেলোয়াড়সহ সেবার মোট ৯ জনকে পায়নি তারা। যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম আগের মতোই আছে। তাই আগামী আন্তর্জাতিক সূচিতেও তেমন পরিস্থিতির শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জটিলতা আগের মতো থাকলেও ব্রাজিলের টিম কোঅর্ডিনেটর জুজিনিয়ো পাউলিস্তা জানান, দুই পক্ষ একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে ধরে নিয়েই এই আটজনকে দলে রাখা হয়েছে।

“ফিফা, প্রিমিয়ার লিগ ও ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমরা অনেক ইতিবাচক আলোচনা করেছি। আমাদের বিশ্বাস, আগামী সপ্তাহে এর ইতিবাচক একটা সমাধান হবে। একারণেই আমরা তাদের দলে ডেকেছি।”

সমস্যা শুধু এখানেই নয়। ব্রাজিল স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, ইংল্যান্ড থেকে তাদের দেশে ফেরাদের ক্ষেত্রেও থাকতে হবে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন। এই নিয়মটি ঘিরেই মাসের শুরুতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

প্রিমিয়ার লিগে খেলা চার ফুটবলার-এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জিওভানি লো সেলসো ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে নিয়ে দল সাজিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় কোয়ারেন্টিন ইস্যুকে সামনে এনে ম্যাচ বন্ধ করে দেয় ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ম্যাচটি আবারও হবে কি-না, সে বিষয়ে এখনও নির্দেশনা দেয়নি ফিফা।

তাই কেবল ব্রিটিশ সরকার ও প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালেই সমস্যা মিটছে না ব্রাজিল দলের, নিজেদের দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে হবে তাদের।

আগামী ৭ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার মাঠে খেলবে ব্রাজিল। এর তিন দিন পর তারা খেলবে কলম্বিয়ার মাঠে। আর ১৪ অক্টোবর এ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে।

এখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলে সবকটি জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আর্জেন্টিনা।

৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে উরুগুয়ে তিন নম্বরে ও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে একুয়েডর চার নম্বরে আছে।

ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), ওয়েভেরতন (পালমেইরাস), এদেরসন (ম্যানচেস্টার সিটি)

ডিফেন্ডার: দানিলো (ইউভেন্তুস), গিলেরমো আরানা (আতলেতিকো মিনেইরো), আলেক্স সান্দ্রো (ইউভেন্তুস), এমেরসন রয়াল (টটেনহ্যাম হটস্পার), এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), লুকাস ভেরিসিমো (বেনফিকা), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), চিয়াগো সিলভা (চেলসি)

মিডফিল্ডার: কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), ফাবিনিয়ো (লিভারপুল), ফ্রেদ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), এদেনিলসন (স্পোর্ত ক্লাব ইন্তারনাসিওনাল), জেরসন (মার্সেই), লুকাস পাকেতা (অলিম্পিক লিওঁ), এভেরতন রিবেইরো (ফ্লামেঙ্গো)

ফরোয়ার্ড: নেইমার (পিএসজি), আন্তোনি (আয়াক্স), রাফিনিয়া (লিডস ইউনাইটেড), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), মাথেউস কুইয়া (হের্টা বার্লিন), গাবি (ফ্লামেঙ্গো)।