দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তাড়না দেখছেন জামাল

এক দশক ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের বৈতরণীই পেরুতে পারছে না বাংলাদেশ। আসরের হিসেবে চারটিতে এই হতাশা সঙ্গী। ব্যর্থতার এই বৃত্তে জামাল ভূইয়া ঘুরপাক খাচ্ছেন ২০১৩ সাল থেকে, তিন আসর ধরে। এবার গণ্ডিটি ভাঙতে আশাবাদী এই মিডফিল্ডার। সতীর্থদের ওপর আস্থাও আছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে আগামী ১ অক্টোবর শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ত্রয়োদশ আসর। ২০০৩ সালে নিজেদের আঙিনায় প্রথম ও সবশেষবার দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতায় বিজয় কেতন উড়েছিল বাংলাদেশের।

২০০৫ আসরে সবশেষ ফাইনাল খেলার পর বাংলাদেশ ২০০৯ সালে সবশেষ উঠেছিল সেমি-ফাইনালে। পরের চার আসরে কোনোবারই গ্রুপ পর্বের গেরো ছোটেনি। এবার জামাল আশাবাদী। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে এই মিডফিল্ডার জানালেন সতীর্থদের মধ্যে কিছু একটা করে দেখানোর তাড়না অনুভব করছেন তিনিও।

“আমাদের লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শেষ সময়ের অনুশীলন সেশনে খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে, নিজেদের সেরাটা দিতে চাইছে। আমরা আমাদের খেলাটা দেখাতে চাই। কিছু একটা করে দেখাতে চাইছি। এটা ভালো গ্রুপ। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই। অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। কোচ আমাদের মতোই ট্রফি জিততে চাইছেন। আশা করছি, সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছুতে পারব।”

সাফে এবার অংশ নেওয়া পাঁচ দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত (১০৭), এরপর মালদ্বীপ (১৬০) ও নেপাল (১৬৮)। বাংলাদেশের (১৮৯) চেয়ে পিছিয়ে কেবল শ্রীলঙ্কা (২০৫)। উদ্বোধনী দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ফেভারিটের তালিকায় ভারতকে সবার উপরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার ছক কষছেন জামাল।

“শ্রীলঙ্কা আমাদের প্রথম প্রতিপক্ষ। র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে ভারত অবশ্যই ফেভারিট। ওরা এগিয়ে আছে। প্রথম ম্যাচ কঠিন হবে। এরপর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ। তবে আমাদের ভালো দর আছে। সবাই সবাইকে জানে। একে অন্যের সঙ্গে খেলেছে। গ্রুপ হিসেবে শক্তিশালী দল। আমার নিজের কনফিডেন্স আছে যে এই দলটি কিছু করতে পারে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত চার আসরে ১২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৩টিতে, ড্র দুটি এবং হার ৭টি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অস্কার ব্রুসন এই ধারা বদলে দিতে চান খেলার কৌশলে পরিবর্তন এনে। ৩-৪-৩ ফরমেশন থেকে বেরিয়ে দলকে প্রস্তুত করছেন ৪-৩-৩ ছকে। জামালও জানালেন কোচের ভাবনা পরিষ্কার বুঝতে পারছেন তারা।

“অ্যাটাকিং ফুটবল খেলা…এটা একটা প্রক্রিয়া। সবকিছুই তো একদিনে হবে না। কোচ প্রথম দিন যোগ দিয়েই বলেছেন কীভাবে দলকে খেলাতে চান। সবকিছু পরিস্কার করে দিয়েছেন। যেই ফর্মেশন দিয়েছেন, সেইভাবে লিগে বেশিরভাগ দলই খেলে থাকে। এর সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিচ্ছি। জেমি ডের অধীনে আগে ৩-৪-৩ খেলেছি। ব্রুসনের নতুন ফরমেশনে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

সাফে অংশ নিতে মঙ্গলবার মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল।