সিটি ছাড়তে চান স্টার্লিং, অবাক গুয়ার্দিওলা

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত ও খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন রাহিম স্টার্লিং। একরকম হঠাৎ করেই যেন সব বদলে গেছে। দলে এখন তিনি অনিয়মিত। তাতে ক্লাবের প্রতি মনটাও যেন বিষিয়ে উঠেছে তার। আরও বেশি ম্যাচ খেলার আশায় এবং নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ঠিকানা বদলের আভাস দিয়েছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

লিভারপুলের যুব দলে আলো ছড়িয়ে ২০১২ সালে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পর সেখানে তিন বছর খেলেন স্টার্লিং। এরপর ২০১৫ সালে প্রত্যাশার ডালি সাজিয়ে তিনি পাড়ি জমান সিটিতে।

সেই থেকে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের দলটিতে ভালো করছিলেন স্টার্লিং। ২০১৯-২০ মৌসুমে দলটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচ খেলে করেন ৩০ গোল। এরপর থেকেই তার ফর্ম পড়তির দিকে। গত মৌসুমে করতে পারেন মাত্র ১৪ গোল, একজন মিডফিল্ডারের জন্য সংখ্যাটা খারাপ না হলেও তার মানের হিসেবে যথেষ্ট নয়।

আরও কিছু কারণ আছে। গত মৌসুম থেকে অনেক ম্যাচেই দেখা গেছে, ঘনঘন খেলার কৌশল বদলেছেন কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। তার ‘ফলস নাইন’ কৌশলের প্রতি ভালোলাগা নতুন নয়। আর এই কৌশলে স্টার্লিংকেও ওই নাম্বার নাইন হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ২৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ও তাতে মানিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

তবে মূল সমস্যাটা দেখা গেছে চলতি মৌসুম শুরুর পর। এবার প্রিমিয়ার লিগের সাত ম্যাচের কেবল দুটিতে তাকে শুরুর একাদশে নামিয়েছেন গুয়ার্দিওলা। স্টার্লিংয়ের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ হয়নি; সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচ খেলে তার গোল কেবল একটি।

সিটির সঙ্গে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে স্টার্লিংয়ের। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, সুযোগ থাকলে অন্য লিগে খেলতেন তিনি।

“যদি অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ থাকত, আমি এই মুহূর্তে সেটির জন্য তৈরি থাকতাম। ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে আমি কেবল প্রিমিয়ার লিগই চিনি। সবসময় আমার একটা ভাবনা ছিল যে হয়তো একদিন আমি বিদেশে খেলব এবং দেখব কীভাবে আমি সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে পারি।”

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাদ্রিদের দলটির প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা বলেছিলেন স্টার্লিং। তবে রিয়ালের নজর এখন পিএসজি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের দিকে। গত দলবদলে কয়েক দফায় ফরাসি ক্লাবটিকে প্রস্তাবও দিয়েছিল তারা।

স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর, স্টার্লিংকে দলে নিতে আগ্রহী বার্সেলোনা। যদিও ইংলিশ এই ফুটবলারকে নিলে আর্থিক সমস্যা আরও বাড়বে কাতালান ক্লাবটির। গত অগাস্টে ক্লাবের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে আর্থিক দুরাবস্থার কারণেই ধরে রাখতে পারেনি তারা।

এদিকে, স্টার্লিংয়ের এমন মনোভাব জানতে পেরে অবাক হয়েছেন গুয়ার্দিওলা।

“আমি এ বিষয়ে (স্টার্লিংয়ের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা) জানতাম না। ক্লাব জানত কি-না, সেটাও আমি জানি না। রাহিম আমাদের খেলোয়াড়। আশা করি, আমাদের জন্য সে খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। জানি না, সে আরও খেলতে চায় কি-না।”

“আমি কেবল চাই, রাহিম এবং সবাই যেন এখানে সন্তুষ্ট থাকে এবং এখানে থাকতে পেরে খুশি হয়। অন্যথায় তার উচিত হবে নিজের পরিবারের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

তবে কোনো খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে তাকে আরও বেশি ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা দিতে চান না গুয়ার্দিওলা।

“আমি একজন খেলোয়াড় ছিলাম। তাই বিষয়টা খুব ভালোমতো বুঝতে পারছি আমি। সবাই সব ম্যাচ খেলতে চায়, কিন্তু আমি কাউকে সেই নিশ্চয়তা দিতে পারব না।”