হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়েও মেসির পেনাল্টি না নেওয়ার কারণ

প্রথম পেনাল্টি নিলেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয় পেনাল্টি নিজে না নিয়ে তিনি ডাকলেন কিলিয়ান এমবাপেকে। ফরাসি ফরোয়ার্ড অবশ্য উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেন সুবর্ণ সুযোগ। তবে এর মধ্যে অন্যরকম প্রাপ্তিও আছে এমবাপের। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি ছুঁয়েছে তাকে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত মঙ্গলবার লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারায় পিএসজি। এমবাপে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর জার্মান দলটি সমতায় ফিরে এবং পরে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। কিন্তু মেসির জোড়া গোলে কাঙ্ক্ষিত হয় তুলে নেয় লিগ ওয়ানের দলটি।

লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোলটি মেসি পান এমবাপের দারুণ ফ্লিক থেকে। ফ্রান্সের দলটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩টি গোল করলেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা এবং তিনটি গোলই তিনি পেলেন ইউরোপ সেরার আসরে।

মেসির সঙ্গে নিজের বোঝাপড়ায় খুশি এমবাপে। আরএমসি স্পোর্টকে এই ফরাসি তারকা জানিয়েছেন নেইমারের ফেরার অপেক্ষায় থাকায় কথাও।

“আজ আমরা মাঠে পরস্পরকে খুঁজে পেয়েছি, এটা ভালো। এখন নেইমার ফিরবে। আমাদের তিন জনকেই নিজেদের মেলে ধরতে হবে। আমাদের তিন জনকেই দলের প্রয়োজন এবং অন্যদেরও কর্যকরী হতে হবে। তবে মেসির সঙ্গে খেলা সহজ।”

লিগ ওয়ানে অঁজির বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ও নেইমারের অনুপস্থিতিতে পেনাল্টি নিয়েছিলেন এমবাপে। লাইপজিগ ম্যাচে প্রথম পেনাল্টি তিনিই আদায় করে নেন; তবে স্পট কিক নেন মেসি। দ্বিতীয় পেনাল্টির সময় রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলারই ডাক দেন এমবাপেকে। পুরো বিষয়কে স্বাভাবিক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা থেকে দেখছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

“এটা স্বাভাবিক, এটা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়। আমি সবসময় বলেছি, তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং তার আমাদের সঙ্গে খেলাটা দারুণ এক পাওয়া।”

“একটা পেনাল্টি হলো, তিনি নিলেন। দ্বিতীয়টা যখন হলো, তিনিই আমাকে বললেন-পেনাল্টি নাও।”

চোটের কারণে এ ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। তবে সব মিলিয়ে দল মন্দ খেলেনি বলেও দাবি এমবাপের।

“আমরা খারাপ খেলিনি। আমি মনে করি, কিছু ভালো বিষয় ছিল, সঙ্গে হয়ত কিছু বিষয় ছিল যেগুলো যথেষ্ট ভালো হয়নি। কিন্তু ভালো একটা দলের বিপক্ষে খেলা হলে সবসময় সবকিছু খুব ভালো হবে না।”

“চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা (সবসময় ভালো খেলা) কঠিন। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকের সামনে আমরা এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছি এবং এই বিষয়েই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।”