মাত্র ১৪ জন নিয়ে অনুশীলন শুরু লামোসের

ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৪ জনের মধ্যে প্রথম দিনের অনুশীলনে মারিও লেমোস পেলেন মাত্র ১৪ জনকে। তারপরও অভিযোগের লেশমাত্র নেই তার! বিষয়গুলো পেশাদারিত্বের ঘাটতি কিনা, একজন কোচের জন্য বিব্রতকর কিনা-এমন প্রশ্নও জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ পাশ কাটিয়ে গেলেন স্মিত হাসি দিয়ে।

শ্রীলঙ্কার টুর্নামেন্ট সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রথম অনুশীলনে নামেন লেমোস। এই পর্তুগিজ কোচের কাজ শুরুর কথা ছিল গত সোমবার থেকে। খেলোয়াড় সংকটে সে সুযোগ মেলেনি। এদিন পেলেন বটে। কিন্তু তিন গোলরক্ষকসহ মোট ১৪ জন ছিল তার ক্লাসে।

বাকি ১০ জনের মধ্যে জামাল ভূইয়া ও কাজী তারিক রায়হান ব্যক্তিগত কারণে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে। পারিবারিক কারণে ক্যাম্পে যোগ দেননি বিশ্বনাথ ঘোষ ও মতিন মিয়া। সোহেল রানা অসুস্থ। এর বাইরে অনুশীলনে ছিলেন না মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, সাদউদ্দিন, মাশুক মিয়া জনি, ইয়াসিন খান ও বিপলু আহমেদ।

শ্রীলঙ্কার প্রাইম মিনিস্টার মাহিন্দা রাজাপাকসে ট্রফিতে আগামী ৮ নভেম্বর সিশেলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে দল। ১১ নভেম্বর মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের। তিন দিন পর প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

দলকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য অল্প সময় কাজে লাগাতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আগেভাগে ফিরেন লোমেস; কিন্তু তখন কাজই শুরু করতে পারেননি। অবশেষে অনুশীলন করতে পেরেই যেন খুশি এই পর্তুগিজ কোচ!

“এমনটা হয়….আমরা একটু দেরিতে অনুশীলন শুরু করলাম। একটা বিষয় খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, আমি কোনো অজুহাত চাই না। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে আসা নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়লাম। যাই হোক, এখন অনুশীলন শুরু করতে পেরেছি।”

“অতীত অতীতই এবং ভবিষ্যৎ হচ্ছে, আমাদের সামনে শ্রীলঙ্কার চার জাতি টুর্নামেন্ট। আমি কেবল এটা নিয়েই ভাবছি। ছেলেদের বলেছিলাম, ১০, ১২ কিংবা ১৪ জন হলেই আমরা অনুশীলন শুরু করব এবং সেটা আমরা করতে পেরেছি। আশা করি, দ্রুতই বাকিদের ক্যাম্পে পাব।”

আপনি বসে আছেন অনুশীলন শুরুর জন্য, কিন্তু খেলোয়াড়রা আসেনি, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কোচিং ক্যারিয়ারে কখনও হয়েছেন কিনা-এ প্রশ্নের জবাবও লেমোস দিয়েছেন ইতিবাচক ভঙ্গিতে।

জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মারিও লেমোস। ছবি: মোহাম্মদ জুবায়ের

“এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। যেটা হলো, সেটাও একটা অভিজ্ঞতা। ছেলেরা ক্যাম্পে আসছে। আমি জানি, দুটি দিন হারালাম; এখন আমাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।”

“পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছি। খেলোয়াড়দের জন্য মৌসুমটা লম্বা ছিল। মালদ্বীপ, কিরগিজস্তানে ভ্রুমণের কারণে তারা কিছু সমস্যার মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন তাদের নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। গত ২৫ অক্টোবর থেকে প্রস্তুত ছিলাম কাজ শুরুর জন্য; কিন্তু খেলোয়াড়রা না আসায় সেটা হয়নি…যাক গে, সেটা ভুলে এখন কাজ শুরু করা যাক।”

অস্কার ব্রুসনের কোচিংয়ে সবশেষ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ও ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ে যে আশা জেগেছিল, তা মিইয়ে যায় মালদ্বীপের কাছে হেরে এবং সবশেষ নেপালের বিপক্ষে ড্র করে। এই অল্প সময়ে শ্রীলঙ্কার টুর্নামেন্টে দলের মধ্যে জয়ের আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনে দিতে চান লেমোস।

“অবশ্যই যদি প্রস্তুতির জন্য আরও বেশি সময় পেতাম, ভালো হতো। কিন্তু সেটা পাচ্ছি না। খুবই অল্প সময় পাচ্ছি। এই সময়ে যেটা করণীয়, তার সবকিছুই করার চেষ্টা করব এবং শেষ যে জিনিসটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে দলের জয় পাওয়া। আশা করি, সেটা আমি দলকে এনে দিতে পারব।”

“জেতার মানসিকতা নিয়ে আমি দলকে খেলাতে চাই; আমার মনে হয়, জাতীয় দলের এখন এটাই প্রয়োজন। ছেলেরা ভালো পারফরম করছে, দলে  ভালো পারফরমারও আছে।”