শেষ দিকের গোলে হার এড়াল পিএসজি

আগের ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো এবার লঁসের বিপক্ষে হারের শঙ্কা জাগে পিএসজি শিবিরে। তবে শেষ দিকের গোলে কোনোমতে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল।

প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার রাতে লিগ ওয়ানের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছে প্যারিসের ক্লাবটি। গত রাউন্ডে ঘরের মাঠে নিসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা।

চলতি মৌসুমে লিগ ওয়ানে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে জয়হীন রইল পিএসজি। যদিও শীর্ষস্থান এখনও তাদের সংহতই।

বল দখলে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে এগিয়ে লঁস। গোলের জন্য তাদের ১৮ শটের সাতটি লক্ষ্যে ছিল। আর পিএসজির ১৩ শটের ছয়টি লক্ষ্যে।

চোটের কারণে আগে থেকে নেই নেইমার। কিলিয়ান এমবাপেকে বেঞ্চে রেখে তিন আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি, মাউরো ইকার্দি ও আনহেল দি মারিয়াকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজান তাদের স্বদেশি কোচ পচেত্তিনো।

অষ্টম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটা পায় লঁস। তবে ডি-বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন ফরাসি ডিফেন্ডার জোনাথন।

ষোড়শ মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে দি মারিয়ার উদ্দেশে ক্রস বাড়ান মেসি। হেডে ক্লিয়ার করেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট পোস্টে লাগে।

২৪ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্তত তিনটি সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন পিএসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। এর মধ্যে জোনাথনের ফ্রি-কিক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান তিনি।

বিরতির আগে দুটি ভালো সুযোগ পায় সফরকারীরা। মেসির ক্রসে কাছ থেকে ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইকার্দি। আশরাফ হাকিমির ক্রসে দূরের পোস্টে দি মারিয়ার প্রচেষ্টা পা দিয়ে ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল পিএসজি। বরং ৬২তম মিনিটে গোল হজম করে তারা। যেখানে যথেষ্ট দায় আছে নাভাসের। ডি-বক্সের বাইরে থেকে সিকো ফোফানার শট ঠেকানোর মতোই ছিল, কিন্তু নাভাসের হাত ফসকে বল জালে জড়ায়।

আক্রমণের শুরুতে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জে মেসি পড়ে গিয়েছিলেন। অসন্তুষ্ট দেখা যায় তাকে। গোলের প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন মার্কো ভেরাত্তি।

ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। পেরেইরা কস্তার প্রচেষ্টা নাভাসকে ফাঁকি দিলেও বল পোস্টে লাগে।

৭০তম মিনিটে ইকার্দিকে তুলে এমবাপেকে ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় জর্জিনিয়ো ভেইনালডামকে নামান পিএসজি কোচ। এই দুজনের নৈপুণ্যেই যোগ করা সময়ে সমতা টানে পিএসজি। ফরাসি ফরোয়ার্ডের ক্রসে কাছ থেকে হেডে গোলটি করেন ডাচ মিডফিল্ডার ভেইনালডাম।

শেষ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগলে ডি-বক্সের মাথায় ফ্রি-কিক পায় পিএসজি। তবে উড়িয়ে মারেন মেসি।

১৭ ম্যাচে ১৩ জয় ও তিন ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি।

১৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মার্সেই। তাদের সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট কম নিয়ে তিনে আছে রেন।

সমান ২৭ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুটি স্থানে আছে নিস ও লঁস। লঁস এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।