‘বিউটিফুল চ্যালেঞ্জ’ নিচ্ছেন নতুন কোচ কাবরেরা

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে হাভিয়ের কাবরেরার। এই চ্যালেঞ্জ জয়ে নিজের ভাবনা প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরলেন এই স্প্যানিশ কোচ। জানালেন, সদ্য শেষ হওয়া স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দেখেছেন। উপমহাদেশে কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে বললেন, বাংলাদেশ দলকে ‘লড়াকু দল’ হিসেবে তৈরি করতে চান তিনি।

জেমি ডে’র ‘ছুটির’ বিষয়টি এখনও সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে কাবরেরার হাতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় দল তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। গত শনিবার ঢাকায় এসে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন কাবরেরা।

কাবরেরা পেশাদার ফুটবলে ২০০৪ সাল থেকে কাজ করছেন নানা ভূমিকায়। তবে সবই ক্লাব পর্যায়ে। এই প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্ব পেলেন ৩৭ বছর বয়সী এই কোচ। বাংলাদেশ দলকে দেওয়ার মতো ‘অনেক কিছু’ আছে বলে আশার কথা শোনালেন তিনি।

“২০০৪ সাল থেকে পেশাদার ফুটবলে কাজ করছি। শুরু করেছিলাম ফুটবল অ্যানালিস্ট হিসেবে। এরপর বিভিন্ন হাই পারফরম্যান্স একাডেমি ও ভারতের পেশাদার ফুটবলে সিনিয়র দলগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। স্পেনেও কাজ করেছি। লা লিগার ভারতের প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। আমি মনে করি, বাংলাদেশ দলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু আমার আছে। এই দলটা তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মিশেলে গড়া। তাদের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি আমি।”

“এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি সত্যিই ভীষণ অনুপ্রাণিত বোধ করছি এবং আমি আশাবাদী। যেহেতু ভারত, যুক্তরাষ্ট্রে লম্বা সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে ভারতে কাজ করেছি প্রায় আট বছর এবং এর সুবাদে আমি সাফ ফুটবল দেখার সুযোগ পেয়েছি। বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর মধ্যে বিশেষ করে যারা এএফসি কাপে খেলে, আবাহনী লিমিটেড ও বসুন্ধরা কিংস সম্পর্কেও জানি। তাই মনে করি, আমি এই অঞ্চলে পুরোপুরি নতুন নই। ভারতে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেটা আশা করি বাংলাদেশে কাজে লাগবে।”

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আর কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। সবশেষ মালদ্বীপের আসরেও আশা জাগিয়ে বিদায় নেয় রাউন্ড রবিন লিগ থেকে। দলকে সফল করতে সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিলেন কাবরেরা।

“আমি মনে করি, এটা আমার জন্য চমৎকার ও বড় চ্যালেঞ্জ। আমার লক্ষ্য শুরু থেকে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়া, জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের খেলার মানের উন্নতি এবং হাই পারফরম্যান্সের জন্য পরিবেশ তৈরি করা। আমরা সবাই মিলে পরিবেশটা তৈরি করব এবং জাতীয় দলের সেরাটা বের করে আনার জন্য সম্মিলিতভাবে টেকনিক্যাল, স্কাউটিং, মেডিকেলসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করব।”

আগামী জুনে এশিয়ান কাপের বাছাই শুরু হবে। তবে কাবরেরা এখনই এশিয়ান কাপ নিয়ে ভাবছেন না। জাতীয় দলের সবাই টিকা না নেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় জানুয়ারির শেষ দিকে দুটি ম্যাচ খেলা হচ্ছে না। বাফুফের পরিকল্পনায় আছে মার্চের ফিফা উইন্ডো কাজে লাগানোর। কাবরেরাও তাকিয়ে আছেন মার্চের দিকে।

“প্রথমত আমাদেরকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে এবং মার্চে দৃষ্টি দিতে হবে। সেসময় সব খেলোয়াড়কে আমি একসঙ্গে পাব। তবে তার আগে, আমাকে এখানকার ক্লাব, তাদের কোচ, অফিসিয়াল সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানতে হবে এবং দেখতে হবে সেখানে ছেলেরা কিভাবে অনুশীলন করে এবং আমরা নতুন করে কী যোগ করতে পারি, সেটাও দেখতে হবে।”

“ফিফা উইন্ডোতে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে ক্যাম্পে পাওয়া এবং তাদের পরিচর্যা করে একটা মানে উন্নীত করার চেষ্টা করব, সেখানে যেন আমরা যে ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করছি তার ছাপ থাকে এবং এরপর আমরা জুনের ফিফা উইন্ডো নিয়ে ভাবব। আমি নিশ্চিত, আমরা লড়াকু দল হয়ে উঠব এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। বার্সেলোনায় ভার্জিনিয়া একাডেমিতে চার মাস কাজ করা কাবরেরার ভাবনা, ম্যাচে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলানোর শিক্ষা নতুন শিষ্যদের দিবেন তিনি।

“আমার লক্ষ্য লড়াকু দল গড়া এবং দলের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা। যারা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী চাহিদা বোঝে না, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের উন্নতি করা।”

“স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যে খেলা দেখেছি, তাতে আমি খুবই ইতিবাচক। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের কিছু ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছে, আমার মনে হয়েছে, দলে লড়াকু ফুটবলার আছে; ক্লাবগুলোতেও ভালো অনুশীলন সুবিধা পাচ্ছে; এখানকার লিগও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং আমি নিশ্চিত দলের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতা আনতে পারব।”