‘ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার এমন কিছু হলো’

আলিসনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি। তবে পরে তা বদলে যায় ভিএআর-এ। ছবি: রয়টার্স।
দুই দফায় লাল কার্ড দেখেছেন একজন ফুটবলার। কিন্তু একবারও তাকে যেতে হয়নি মাঠের বাইরে! একুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে প্রযুক্তির সহায়তায় দুইবার রক্ষা পান ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন। এছাড়াও ঘটনার ঘনঘটার ম্যাচটিতে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ব্যবহৃত হয় বারবার। তাতে বিতর্ক ছড়ালেও ম্যাচ শেষে এই প্রযুক্তির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা আলিসনের কণ্ঠে।

একুয়েডরের রাজধানী কিটোয় বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এই ম্যাচটি ড্র হয় ১-১ গোলে। তবে দুই দলের গোলস্কোরার বা কোনো ফুটবলার নয়, ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ভিএআর।

ম্যাচে দুই দলের দুটি লাল কার্ড, আলিসন দুবার লাল কার্ড পেলেও তা পরে বদলে যাওয়া, একুয়েডরের পক্ষে দুটি পেনাল্টির বাঁশি বাজার পরও পেনাল্টি না পাওয়া, সবই হয়েছে প্রযুক্তির সহায়তায়।

ম্যাচের পর আলিসন বললেন, ভিএআর না থাকলে অন্যায়ের শিকার হতো ব্রাজিল।

“আমার ধারণা, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার এরকম কিছু হলো। মাঠে আমার পদক্ষেপগুলো ঠিক ছিল বলেই মনে করি আমি এবং সতীর্থরা এখানে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। ওরা নিজেদের অভিযাগ নিয়ে রেফারির কাছে সোচ্চার ছিল।”

“ফুটবলে ভিএআর-এর ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আরও একবার ফুটে উঠেছে এতে। ভিএআর নিয়ে আমি দারুণ খুশি। এটা না থাকলে আজ আমরা অন্যায্যভাবে শাস্তির শিকার হতাম।”

কলম্বিয়ান রেফারির সিদ্ধান্ত বারবার ভিএআর-এ বদলে যাওয়ায় স্বাগতিক দর্শকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্রভাবে। তবে আলিসন মনে করেন, শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তই এসেছে এবং দিনশেষে ম্যাচের ফলে প্রতিফলন পড়েছে মাঠের পারফরম্যান্সের।

“আমি মনে করি, ড্র-ই এই ম্যাচের উপযুক্ত ফল। কারণ কোনো দলই যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি যে বলতে পারবে, ম্যাচের এই ফল ন্যায্য নয়।”

“তিতে (কোচ) আমাদেরকে সবসময় বলেন মাঠে মানসিকভাবে শক্ত থেকে নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে এবং রেফারিকে তার কাজ করতে দিতে। তবে আজকের ম্যাচ সেদিক থেকেও ছিল খুব কঠিন। আমরা মানসিকভাবে খুব শক্ত ছিলাম এবং আমরা যখন রেফারির কাছে প্রশ্ন তুলেছি, তা সময়মতোই করেছি। ভিএআর ব্যবহার করা হয়েছে এবং আমাদের বলতেই হবে যে এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিদ্ধান্তগুলো বদলে গেছে।”

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে ব্রাজিল বেশ আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে বিশ্বকাপ খেলা। একুয়েডর আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে। এই অঞ্চল থেকে চারটি দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।