চিলির 'আতিথেয়তায়' অসন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা

হার-জিতের লড়াইটা তো হবে মাঠে। প্রতিপক্ষকে বধ করার সব পরিকল্পনা সাজানো হবে মাঠকেন্দ্রিক। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একটু একটু করে পিছিয়ে পড়া চিলি কী প্রতিপক্ষকে আগেভাগেই কাঁবু করার অনৈতিক পথে হেঁটেছিল? অন্তত আর্জেন্টাইনদের অভিযোগ সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। দলটির মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল দাবি করেছেন, চিলির মাটিতে পা দেওয়ার পর থেকেই তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেছিল স্বাগতিকরা।

সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই খেলোয়াড় সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন, চিলির কালামা শহরে পৌঁছানোর পর তাদেরকে বাথরুম ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, তাদের থাকার জায়গায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না এবং এমনকি পানিও ছিল না! পাশাপাশি প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে নাকি সাইরেনের শব্দে অতিষ্ট ছিল তারা সবাই।

তবে মাঠের বাইরের এতসব প্রতিকূলতা আর্জেন্টিনার দারুণ ছুটে চলার পথে বাধা হতে পারেনি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি ২-১ গোলে জেতে দুবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।

আনহেল দি মারিয়া সফরকারীদের এগিয়ে নেওয়ার পর চিলির হয়ে সমতা টানেন বেন ব্রেরেতন। এরপর ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস। সব মিলিয়ে টানা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত আছে আর্জেন্টিনা, যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

ম্যাচটির পর সংবাদ সম্মেলনে দে পল ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিলির মাঠের বাইরের ওই সব কর্মকাণ্ডে।

“বিমান থেকে নামার পর তারা আমাদের বাথরুমেও যেতে দেয়নি। তারা আমাদের এয়ার কন্ডিশনারের লাইন কেটে দিয়েছিল, আমাদের কাছে জল ছিল না এবং সেখানে থাকাকালীন পুরোটা সময় সাইরেন বাজিয়েছিল তারা।”

পাশাপাশি স্বাগতিক হিসেবে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ দলগুলোকে কেমন আতিথেয়তা দেয় তাও স্মরণ করিয়ে দিলেন।

“আমি বলছি না এটা ঠিক নাকি ভুল। কিন্তু একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে বলতে পারি, আমার দেশে আসা প্রতিটি দলকে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে যেন তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আর লড়াইটা আমাদের মাঠেই জিততে হবে। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তো সেটাই।”

কাতার বিশ্বকাপ আগেই নিশ্চিত করে ফেলা লিওনেল স্কালোনির দল ১৪ ম্যাচে ৯ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে। সমান ম্যাচে ১১ জয় ও তিন ড্রয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ব্রাজিল।

১৫ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে চিলি। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িযে দলটির কাতারের টিকেট পাওয়ার পথটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই অঞ্চলের ১০ দেশের বাছাই থেকে শীর্ষ চারটি দল কাতার বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকেট পাবে। পঞ্চম স্থানে থাকা দলকে খেলতে হবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ।