পোস্টের বাধা, রক্ষণের ভুলে হারল বসুন্ধরা কিংস

প্রথম মিনিটেই সুযোগ মিলল, মিগেল ফিগেইরা দামাশেনো তা নষ্ট করলেন। দুইবার পোস্ট দাঁড়াল পথ আগলে। এরপর শুরু হলো রক্ষণের ভুলের মিছিল। দুর্ভাগ্যের শিকার হওয়া আর ভুলের চড়া মাশুল গুণে এএফসি কাপে মোহনবাগানের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বসুন্ধরা কিংস।

কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে শনিবার এএফসি কাপে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ক্রিস্টিয়ান কোলাসোর হ্যাটট্রিকে ৪-০ গোলে হারে কিংস। মোহনবাগানের অপর গোলদাতা ডেভিড উইলিয়ামস।

এএফসি কাপে এই প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল অস্কার ব্রুসনের দল।

গত আসরে গ্রুপ পর্বে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেবার মোহনবাগানের বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছিল কিংস। এবার শুরুতে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ করল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা।

কিক অফের একটু পর শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। দমকা বাতাসের তোড়ে উড়ে যায় বিলবোর্ড, ব্যানার। সেগুলো গুছিয়ে নিয়ে ফের বৃষ্টির মধ্যে খেলা শুরু হলেও পরে ভারী বর্ষণের সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। বাধ্য হয়ে খেলা স্থগিত রাখেন রেফারি। পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় প্রায় এক ঘণ্টা পর ফের ম্যাচ শুরু হয়।

প্রথম মিনিটেই দারুণ সুযোগ কড়া নেড়েছিল কিংসের দরজায়। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুলে বক্সের ঠিক ওপরে বল পেয়ে যান দামাশেনো। চিনেডু ম্যাথিউয়ের সঙ্গে একবার বল দেওয়া নেওয়া করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট বাইরে যায় পোস্ট ঘেঁষে।

এরপরই শুরু হয় ঝড়ো বৃষ্টি। তারপরও খেলা চলছিল। একাদশ মিনিটে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকার পর খেলা ফের শুরু হয় কিংসের আধিপত্য দিয়ে। কিন্তু বারবার দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অষ্টাদশ মিনিটে রবসন দি সিলভা রবিনিয়োর ফ্রি কিকে বল জটলার ভেতর দিয়ে নিচু হয়ে ড্রপ খেয়ে দূরের পোস্টে লেগে ফিরে। গোলমুখে থাকা কাজী তারিক রায়হান হেড করতে পারলেও হতে পারত গোল।

২১তম মিনিটে মোহনবাগানের এক ডিফেন্ডার হেডে বল ক্লিয়ার করেন। বল বাতাসে ভেসে থাকতেই বক্সের বেশ বাইরে থেকে রিমন হোসেনের দূরপাল্লার ভলি আবারও পোস্টে প্রতিহত হয়।

এরপর কিংসের রক্ষণের ভুলের শুরু। ২৪তম মিনিটে সতীর্থের লং পাস ধরলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান কোলাসো। খালিদ শাফিই শুরুতে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। শট নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। সহজ সুযোগ প্লেসিং শটে কাজে লাগান কোলাসো।

৩৩তম মিনিটের ভুলে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে কিংস। রক্ষণ ছেড়ে তারিক, বিশ্বনাথ, শাফিইরা উপরে উঠে যান। সুযোগে জনি কাউকো নিজেদের অর্ধ থেকে থ্রু পাস বাড়ান কোলাসোর উদ্দেশে। ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিনা বাধায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে কাটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও বারবার কিংসের রক্ষণে চিড় ধরা পড়তে থাকে প্রকটভাবে। ৫০তম মিনিটে সতীর্থের উদ্দেশে পাস দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রতিহত হওয়ার পর বক্সের বাইরে থেকে নিজেই চেষ্টা করেন ইয়াসিন আরাফাত। কিংসের এই ডিফেন্ডারের নিচু শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান মোহনবাগান গোলরক্ষক।

দুই মিনিট পর বল দখলের লড়াইয়ে পেরে ওঠেননি শাফিই। তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পর মানভীর সিং বল বাড়ান বক্সে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বিনা পাহারায় থাকা কোলাসো নিখুঁত শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।

৬৪তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে জিকোকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন কোলাসো। কিন্তু কিংস গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নিতে পারেননি তিনি, গায়ে মেরে বসেন। ৭৭তম মিনিটে সতীর্থের পাস ব্যাক হিলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শরীরটা ঘুরিয়ে দারুণ শটে ব্যবধান বাড়ান উইলিয়ামস।

গত বুধবার মাজিয়া স্পোর্টিস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে গ্রুপ পর্বের পথচলা শুরু করে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন কিংস। ব্যবধান গড়ে দেওয়া একমাত্র গোলটি করেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মারোং। এবার কেউই দলের ত্রাতা হতে পারলেন না।

অন্যদিকে, উদ্বোধনী দিনেই গোকুলাম কেরালার কাছে ৪-২ গোলে হারা মোহনবাগান পেল চলতি আসরে প্রথম জয়।

আগামী মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে গোকুলাম কেরালার মুখোমুখি হবে কিংস। ভারতের আই-লিগের দলটি শনিবার মাজিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। তাদের হারে এ মুহূর্তে গ্রুপে চার দলেরই দুই ম্যাচে পয়েন্ট সমান ৩ করে। অর্থাৎ শেষ রাউন্ডেই নিষ্পত্তি হবে কোন দলটি পেরুবে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী।