রিয়ালে যাচ্ছেন না এমবাপে, থাকছেন পিএসজিতেই!

এই শোনা যায়-কিলিয়ান এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদে আসছেন, স্রেফ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। খোদ পিএসজি কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো জানান, তিনিও ফরাসি ফরোয়ার্ডের সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায়! এমন গল্প-গুঞ্জনের মধ্যে নতুন খবর এলো। সেখানেও বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। তবে জোর ইঙ্গিত, রিয়াল নয়, এতদিনের ঠিকানা পিএসজিতে থেকে যাচ্ছেন এই বিশ্বকাপজয়ী।

এমবাপের রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষের ইঙ্গিত মিলেছে রয়টার্স ও মাদ্রিদের দলটির ‘মুখপাত্র’ বলে পরিচিত দৈনিক মার্কার প্রতিবেদনে। দুই প্রতিবেদনের সারমর্ম একই-এমবাপের সব চাওয়া মেনে নিয়েছে পিএসজি!

এমবাপের প্যারিসে থেকে যাওয়ার খবরটি লেকিপের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়নের পথে রয়েছেন এমবাপে; ২০২৫ সাল পর্যন্ত লিগ ওয়ানের দলটির সঙ্গে তার থেকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে তারা। তবে এ ব্যাপারে পিএসজির কোনো মন্তব্য জানতে পারেনি রয়টার্স।

এমবাপের ট্রান্সফার ইস্যুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে মার্কা। এরই মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজের সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে জানিয়ে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা।

এমবাপের রিয়ালের আসার সম্ভবনার মোটামুটি শেষ টেনে দিয়েছে মার্কা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে রিয়ালকে দ্বিতীয়বারের মতো ফিরিয়ে দিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।

অনেক বিষয়ে এমবাপের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে পিএসজির। ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ও পরবর্তী কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তার মতামত শোনা হবে বলে জানিয়েছে মার্কা।

নিজস্ব সুত্রের বরাত দিয়ে বিবিসিও একইরকম খবর দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার লিগ ওয়ানে মেসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিংবা পরে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে পিএসজি। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মাঠে নামবে অনেক আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা প্যারিসের দলটি।

পাঁচ বছর আগে ২০১৭ সালে মোনাকো ছেড়ে এমবাপের পিএসজিতে যোগ দেওয়ার সময়ও তাকে দলে টানতে চেয়েছিল রিয়াল। সেবার অবশ্য গুঞ্জন অল্পতেই থেমে গিয়েছিল। তবে তখন থেকে অনেকবার তিনি বলেছেন, 'প্রিয় ক্লাব' রিয়ালে খেলার ইচ্ছার কথা।

গত মৌসুমের শেষে তো পাকাপাকিভাবে পিএসজিকে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু পিএসজি তাকে ছাড়তে ছিল নারাজ। স্পেনের সফলতম দলটি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিতে প্রস্তুত থাকলেও মন বদলায়নি পিএসজি কর্মকর্তাদের।

এরপর সময় গড়িয়ে শুরু হয় নতুন বছর। ১ জানুয়ারি থেকেই ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে নতুন ঠিকানা বেছে নেওয়ার পথ খুলে যায় এমবাপের। তার দলবদলের সম্ভাবনা নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। আসতে থাকে নতুন নতুন খবর।

তাকে পাওয়ার ব্যাপারে অবশ্য দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল রিয়াল। পিএসজির পক্ষ থেকে যখনই এমবাপেকে নিয়ে নতুন কোনো গল্প বলা হয়েছে, প্রতিবারই রিয়ালের পক্ষ থেকে একরকম নিশ্চয়তার সুরেই বলা হয়েছে, চিন্তার কিছুর নেই, এমবাপে রিয়ালেই আসছেন।

তবে সবশেষ ইউরোপের সব প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের এসব খবরে এখন এমবাপের পিএসজিতে থেকে যাওয়ার জোর ইঙ্গিতই মিলছে। এখন তাই বলাই যায়, সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান তারকাকে পাওয়ার আশা আবারও অপূর্ণই রয়ে গেল রিয়ালের।

অনায়াসে লিগ শিরোপা জিতলেও ২০২১-২২ মৌসুমটা মোটেও ভালো কাটেনি পিএসজির। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি ফরাসি কাপ থেকেও আগেভাগে ছিটকে যায় তারা।

দলগত এসব ব্যর্থতার মাঝে অনেক ম্যাচে নেইমার-লিওনেল মেসিরা ছিলেন ছায়া হয়ে। এমনকি সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয় তাদের। তবে হতাশাময় পথচলায় এমবাপে ছিলেন উজ্জ্বল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে তিনি করান ২৬ গোল।