রিয়ালের কষ্টটা বুঝতে পারছেন এমবাপে

এক বছর আগে সরাসরি রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা, মাঝে দলটির সঙ্গে ‘মৌখিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো’ এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে সব ভেস্তে দিয়ে কিলিয়ান এমবাপের পিএসজিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে নিশ্চিতভাবেই খুব হতাশ মাদ্রিদের দলটি। আর সেটা ভালোমতো অনুধাবন করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

তাকে দলে টানার জন্য রিয়াল যে এত চেষ্টা করেছে, সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এমবাপে। একই সঙ্গে বলেছেন, রিয়ালের প্রতি শৈশব থেকে যে ভালোবাসা কাজ করে তার মধ্যে তা এখনও অটুট আছে। আসছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তাদেরকেই সমর্থন দেবেন, বললেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।

গত গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিন পর্যন্ত এমবাপেকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল রিয়াল। কিন্তু পিএসজি তাকে ছাড়তে ছিল নারাজ। স্পেনের সফলতম দলটি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিতে প্রস্তুত থাকলেও মন বদলায়নি পিএসজি কর্মকর্তাদের।

এরপর সময় গড়িয়ে শুরু হয় নতুন বছর। ১ জানুয়ারি থেকেই ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে নতুন ঠিকানা বেছে নেওয়ার পথ খুলে যায় এমবাপের। তবে তিনি নিজে কখনও পিএসজিতে থাকা বা রিয়ালে যোগ দেওয়া নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত শনিবার পিএসজিতে থাকার ঘোষণা দেন এমবাপে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

রিয়ালে যোগ দেওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ মুহূর্তে দলটিকে ‘না’ করে দেওয়ায় তাদের হতাশা বুঝতে পারছেন এমবাপে। গত রোববার টুইটারে এক বিবৃতিতে মাদ্রিদের ক্লাবটিকে তাকে দলে টানার চেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

“আমি আন্তরিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদ এবং তাদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এমন একটি দুর্দান্ত ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ এবং আমাকে পেতে যে তাদের এত আগ্রহ, সে সম্পর্কে আমি জানি। আমি তাদের হতাশাটাও বুঝতে পারছি।”

“প্যারিসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আমি তাদের সবচেয়ে বড় ভক্ত হব। এখানে আমার বাড়ি।”

২০২১-২২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯ গোল করা এমবাপে পিএসজির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার (১৭১)। তার সামনে আছেন কেবল এদিনসন কাভানি (২০০)। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে খেলে আরও উন্নতি করার ব্যাপারে আশাবাদী এমবাপে।

“আমার বিশ্বাস, এখানে আমি আরও উন্নতি করতে পারব। এটা এমন একটি ক্লাব, যারা শীর্ষে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ফ্রান্সে বেড়ে উঠতে পেরে আমি খুব খুশি।”