'ঘটনাচক্রে ফাইনালে আসিনি, লিভারপুলের জন‍্য রিয়াল প্রস্তুত'

সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে মার্কো আসেনসিও (ডানে)। ছবি: রিয়াল মাদ্রিদ
নকআউট পর্বের শুরু থেকে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে আসার পথটা দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা। পিএসজি, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিটি ধাপে হারতে হারতে শেষ মূহূর্তে জয় পেয়েছে রিয়াল। তাই কারো কারো মত, ভাগ্যের জোরেই তারা এতদূর আসতে পেরেছে। মার্কো আসেনসিও তা মানতে নারাজ। বললেন, ভাগ্যের জোরে নয়, নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই শিরোপার লড়াইয়ে আছেন তারা।

মৌসুমের শুরুতে ইউরোপ সেরার মঞ্চে ফাইনালে খেলবে রিয়াল, এমনটা ভাবার লোক খুব বেশি ছিল না। অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তার দিক থেকে তারা যে খুব পিছিয়ে ছিল, তা নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছিল, ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো তাদের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে ভুল প্রমাণ করে নিজেদের ‘প্রিয়’ মঞ্চে আবারও জ্বলে ওঠে ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি। শেষ ষোলোয় তাদের সামনে ছিল তারকায় ঠাঁসা পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে একটা সময় পিছিয়ে থাকলেও ফিরতে লেগে করিম বেনজেমার ১৭ মিনিটের দারুণ হ্যাটট্রিকে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

এরপর দুই ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও সিটির বিপক্ষে দলটি রচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর আরও দুটি দারুণ গল্প। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ছিল প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয়।

সেমি-ফাইনালের দুই লেগের লড়াইয়ে ১৭৯ মিনিট পর্যন্ত ৫-৩ গোলে এগিয়ে থেকে ফাইনালের সুবাশ পাচ্ছিল সিটি। সবাই যেখানে শেষ ধরে নিয়েছিল, সেখান থেকেই যেন শুরু করে রিয়াল। দুই মিনিটে দুই গোল দিয়ে লড়াইয়ে সমতা টানার পর শেষ পর্যন্ত ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে জায়গা করে মাদ্রিদের ক্লাবটি।

প্যারিসে আগামী শনিবার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ লিভারপুল।

প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের এটি চলতি মৌসুম সহ গত সাত আসরে চতুর্থ ফাইনাল। ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মৌসুমে টানা তিন বার শিরোপা জিতেছিল দলটি।

দারুণ খেলে আরেকটি শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও অনেকের ধারণা, এই পথচলায় ভাগ্য ছিল রিয়ালের পক্ষে। মার্কায় বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে আপত্তি জানান আসেনসিও।

২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়েই সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল রিয়াল। ট্রেবল জয়ের অপেক্ষায় থাকা ইংলিশ দলটির বিপক্ষে আবারও মাঠে নামার আগে সতর্ক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

“আমাদের খেলার সব দিক থেকে প্রস্তত থাকতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের নিজেদের ওপর, নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ফাউল না করার চেষ্টা করতে হবে যাতে তারা সুবিধা নিতে না পারে। আক্রমণে তাদের (লিভারপুল) খুব দ্রুতগতির কিছু খেলোয়াড় আছে।”

“এসব ব্যাপারে ভাবার পর আসে আমাদের আবেগের বিষয়টি। আমাদের আরও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এর জন্য কতটা উদগ্রীব আমরা। ঘটনাচক্রে আমরা এতগুলো ফাইনালে খেলিনি এবং শিরোপা জিতিনি।”