সালাউদ্দিনের ‘সিম্পল চাওয়া’

সবশেষ ১৯৮০ সালে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেবল সময়ের ডানায় চেপে বছর আর আসর গড়িয়েছে, বাছাইয়ের বৈতরণী পেরুতে পারেনি দল। এবারও পারবে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে কিছুদিন পর। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানিয়ে রাখলেন নিজের চাওয়া। জামাল ভূইয়া-আনিসুর রহমান জিকোদের কাছে শতভাগ নিবেদন ও পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা তার।

আগামী ৮ জুন মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুরে শুরু হবে বাছাই। মূল লড়াইয়ের আগে ১ জুন ইন্দোনেশিয়ায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে গত ১৭ মে থেকে মাঠের প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।

এই প্রথম ক্যাম্প পরিদর্শনে গেলেন সালাউদ্দিন। সুবাদে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়ও গেলেন প্রথম। কিংসের হোম ভেন্যুর মাঠ, প্রস্তুতির সুযোগ-সুবিধা সবকিছু দেখে মুগ্ধ তিনি। অভিনন্দন জানালেন কিংস কর্তৃপক্ষকে। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দেখেও সন্তুষ্ট সাবেক এই তারকা ফুটবলার। বাছাই নিয়ে নিজের চাওয়াটাও জানাতে ভোলেননি সালাউদ্দিন।

“দেখুন, খেলোয়াড়দের কাছে আমার প্রত্যাশা খুবই সিম্পল (সাধারণ), তাদের কাছে আমার অনুরোধ-তারা যেন শতভাগ দেয়। তারা শুধু এটাই করতে পারে। এর বেশিও দিতে পারবে না, কমও দিতে পারবে না। যদি একজন খেলোয়াড় শতভাগ দেয়, তাহলে দল জিততে পারে। এমনকি হারতেও পারে, কিন্তু সেটা ব্যাপার নয়। খেলোয়াড়দেরকে শতভাগ দিতে হবে।”

“সভাপতি হিসেবে আমি যেটা দিতে পারি, সেরা খেলার (অনুশীলনের) মাঠ, সেরা হোটেল, অনুশীলনের সুবিধা-সেটা আমি দিয়েছি। সভাপতি হিসেবে তো আর খেলে দিতে পারি না। খেলোয়াড়দের বলেছি, খেলার কাজটা তোমাদের। তো তোমাদের কাজটা তোমাদের করতে হবে।”

অনেক দিন ধরে জাতীয় দল পাচ্ছে না প্রত্যাশিত সাফল্যের দেখা। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে পেরুতে পারছে না গ্রুপ পর্ব। সবশেষ প্রীতি ম্যাচেও মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে করে ড্র। রংহীন ফুটবলে প্রাণ ফেরানোর দায়িত্ব যে ফুটবলারদের, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন সালাউদ্দিন।

“তোমরা যদি চাও, আমাদের ফুটবল জীবন্ত থাকবে, তাহলে অবশ্যই তোমাদের কাজটা করতে হবে। আমি এ বছর আছি, হয়ত সামনে থাকব না, অন্য কেউ সভাপতি থাকবে, এগুলো অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু ফুটবল খেলাটা কোচ ও খেলোয়াড়দেরই খেলতে হবে। আমি সহযোগিতা করতে পারি, কিন্তু খেলে দিতে পারি না।”

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই চোটে জেরবার অবস্থা। শহীদুল আলম সোহেল, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ও সাদউদ্দিন ক্যাম্প থেকে ছিটকে গেছেন চোট পেয়ে। এএফসি কাপ খেলতে কলকাতায় গিয়ে চোটাক্রান্ত কিংসের মতিন মিয়া, সুমন রেজা, মাশুক মিয়া জনি ও কাজী তারিক রায়হানকে পাওয়া নিয়েও জেগেছে অনিশ্চয়তা। চোট ফুটবলের অংশ বলে বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন সালাউদ্দিন।

“ট্রেনিং সেশন খুবই ভালো দেখলাম। কিছু ইনজুরির কথা আমি জানি। এটা ফুটবলেরই অংশ। এএফসি কাপ খেলতে যাওয়া কিংসের কিছু খেলোয়াড়ও চোট পেয়েছে। এসব চোটে আপনি দুঃখ পাবেন, কিন্তু কিছু করার নেই। খেলারই অংশ। বাদবাকী দল কী করবে, সেটা কোচ এবং খেলোয়াড়রাই বলবেন। আমাদের যেটা দেওয়ার আমরা সেটা দিয়েছি।”

সালাউদ্দিন প্রশংসা করেছেন নতুন কোচ হাভিয়ের কাবরেরারও। এই স্প্যানিশ কোচের নিবেদন, নিষ্ঠা, একাগ্রতা নিকট অতীতে বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকা কারো মধ্যে না দেখার কথাও জানালেন তিনি।

“সবশেষ কোচের চেয়ে বর্তমান কোচের পার্থক্য হচ্ছে, কাবরেরা শতভাগ দেয়। সে নিজে খেলা দেখে। দল নির্বাচনে কারো উপর নির্ভর করে না। এটা একজন কোচের মূল দায়িত্ব। সে নিজের দল নিজে গড়ে, কারো কাছ থেকে শুনে গড়তে হয় না। এই গুণ আমি আগের কোচের মধ্যে পাইনি। কাবরেরা নিজের মতো করে সবকিছু করে, শতভাগ দেয়।”