বিএসইসি-কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমন্বয় বাড়াতে পদক্ষেপ

নিজেদের সমন্বয়হীনতা ‍দূর করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী দুই কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিএসইসির দুই কর্মকর্তা এখন থেকে এই সমন্বয়ের কাজটি করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

পুঁজিবাজারের দুর্দশার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে কারণ হিসেবে দেখছিলেন অনেক বিশ্লেষক।

এই অবস্থায় বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই দূরত্ব ঘোচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিবলী রুবাইয়াতুল।

বৈঠক শেষে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিএসইসির পক্ষ থেকে একজন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তা ঠিক করেছি, যারা এক সাথে বসবেন এবং দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করবেন।”

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, ফাইল ছবি

সমন্বয়ের কাজটি করার জন্য প্রথমে তারা প্রতি মাসে বসবেন। পরে প্রতি ২ মাসে একবার তাদের বৈঠক হবে।

প্রতি ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে আনার বিষয়টিও দেখবেন সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া এই দুই কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সুবিধা ও নীতিসহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।

এর আওতায় কোনো ব্যাংক তার নির্ধারিত সীমার বাইরেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার ‘বিশেষ তহবিল’ গঠন করতে পারে।

ব্যাংকগুলো নিজস্ব অর্থে এই তহবিল গঠন করা যাবে। তা না পারলে ট্রেজারি বিল/ট্রেজারি বন্ড রেপোর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তহবিল গঠন করতে পারবে।

শিবলী রুবাইয়াতুল বলেন, “ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের বিষয়টি দেখবেন সমন্বয় কমিটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে আইনি জটিলতার কথা আমাদের জানানো হয়েছে। সেটি নিয়েও কাজ করবেন এই দুই কর্মকর্তা।”  

করোনাভাইরাস সঙ্কটে ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে ব্যাংকের লভ্যাংশ বিতরণের ওপর যে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, ‘ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে’ তা শিথিলের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।  

গত ১১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর ঘোষিত নগদ লভাংশ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বিতরণ করা যাবে না।