১০ দিনে ৭% সূচক বাড়ল ডিএসইতে

ঈদের ছুটির পর সপ্তাহের শেষ লেনদেনে সূচক এবং লেনদেন বেড়েছে বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে।  

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৭ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৩৬৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এই সূচক প্রায় ৫ মাসের মধ্যে বেশি। এর আগে এরচেয়ে বেশি সূচক ছিল ২০২০ সালের ৫ মার্চ; সেদিন সূচক ছিল চার হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা দশদিন সূচক বাড়ল ঢাকার পুঁজিবাজারে। ১০ কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ২৮৮ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

গত ২২ জুলাই সূচক ছিল চার হাজার ৭৭ পয়েন্ট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুঁজিবাজারের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে বলে মনে হয়। সেজন্য আস্তে আস্তে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে আসছেন। কারণ লেনদেন ৫০ কোটি থেকে বেড়ে ৮০০ কোটি হয়ে গেছে।

“শেয়ার নিয়ে যারা কারসাজি করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের শাস্তি দিতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছে এখন তাদের টাকা পুঁজিবাজারে নিরাপদ। কেউ কারসাজি করলে তার শাস্তি হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে ফিরে আসছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আইনে ছিল প্রতিটি কোম্পানির ৩০ শতাংশ এবং প্রতি পরিচালককে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নতুন কমিশন এ বিষয়ে কঠোর হয়েছে, ফলে শেয়ার কেনার চাহিদা বাড়ছে। আবার কিছুদিন ধরে করোনাভাইরাসের ভয় থেকে মানুষ বের হতে শুরু করেছে। অর্থনীতি কিছুটা আগের জায়গায় ফেরার চেষ্টা করছে। এছাড়া এবারের মুদ্রানীতি ছিল ইতিবাচক। সবমিলিয়ে একটা ভাল প্রভাব এসেছে পুঁজিবাজারের উপরে।”

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৭১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এই লেনদেন প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে বেশি। এর আগে এর চেয়ে বেশি লেনদেন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন লেনদেন ছিল ৮৩৭ কোটি ১৫ লাখ।

যদিও ২৮ জুন ২০২০ লেনদেন ছিল দুই হাজার ৫৪৩ কোটি কিন্তু সেদিনের লেনদেনকে গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।কারণ সেদিন গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের হাত বদল হয়, যার পরিমান ছিল প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।   

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৯টির, আর কমেছে ৭৯টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১১ দশমিক ১১ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৪৭৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৭১ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১২ হাজার ৪০১ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

সিএসইতে ৪৯ কোটি এক লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৬৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টির দর।