প্রথমবার কমল রবির শেয়ারের দাম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর লেনদেনের ষোড়শ দিনে এসে প্রথমবারের মত কমল বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটরটর রবির শেয়ারের দাম।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে রোববার রবির শেয়ারের দাম আগের দিনের ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ, এক দিনে দাম কমেছে ৫ টাকা ৬০ পয়সা বা ৮ শতাংশ।

মোবাইল অপারেটর রবি গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর রোববার পর্যন্ত মোট ১৬ দিন লেনদেন হয়েছে এ শেয়ারের। রোববারের আগে প্রতিদিনই বেড়েছে রবির শেয়ারের দাম। 

১০ টাকায় আইপিওতে আসা রবির শেয়ার বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সায়। কমার আগে এ শেয়ারের দাম ১৫ দিনে ৬০১ শতাংশ বাড়ে।

রোববার রবির মোট ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টাকার হিসেবে রবির এই শেয়ারের মোট মূল্য ২৮১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ঢাকার পুঁজিবাজারে এটাই এদিন কোনো শেয়ারের সর্বোচ্চ লেনদেন।

সর্বশেষ নীরিক্ষত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী রবির শেয়ারের বর্তামন পিই ২ হাজার ১৫০পয়েন্ট। অর্থাত্ রবির একটা মুনাফার জন্য বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকা।

একই খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোনের তুলনায় এই পিই অনেক বেশি।

সর্বশেষ নীরিক্ষত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রামীণফোনের শেয়ারের বর্তামন পিই ১৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট।

কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই রেশিও ১৫ থেকে ২০ এর মধ্যে হলে তাকে ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করেন বাজার বিশ্লেষকরা। অবশ্য যেসব কোম্পানির সামনে ভালো করার সম্ভাবনা আছেম তাদের পিই আরো বেশি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান নিয়মে কোনো শেয়ারের পিই রেশিও ৪০ এর বেশি হলে তা মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হয়।

রবি আইপিও থেকে মোট ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার ছাড়ে।

এর মধ্যে রবি কর্মীদের কাছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার বিক্রি করে ১৩৬ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ টাকা তুলেছে।

বাকি ৩৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার মধ্যে ১৫৫ কোটি ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ ছিল যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য। বাকিটা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য।

২০১৯ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী রবির সম্পদ মূল্য ১৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

গতবছর তারা মুনাফা করেছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সময়ে তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১২ টাকা ৬৪ পয়সা আর শেয়ার প্রতি মুনাফা ৪ পয়সা।

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী রবির মোট সম্পদ ১৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। রিটার্ন অন অ্যাসেট দশমিক ১০ শতাংশ। এর অর্থ ১০০ টাকার সম্পদ ব্যবহার করে ১০ পয়সা মুনাফা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে রবির ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার আছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার আছে।

রবির বাজার মূলধন ৩৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ২৩৬ কোটি ২ লাখ টাকা।