সবচেয়ে উঁচুতে ডিএসই সূচক

কারিগরি জটিলতায় লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার দিনে সাড়ে আট বছর আগে চালু হওয়া ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম লেনদেনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সে বড় উত্থান হলে তা তিন বছর আট মাস আগের অবস্থানকে পেছনে ফেলে আরও উপরে ৬ হাজার ৩৬৫ দশমিক ১২ পয়েন্টে উঠে যায়।

দিনশেষে ডিএসইএক্স আগের দিনের থেকে ৫৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে নতুন এই অবস্থানে পৌঁছায়।

২০১০ সালের ধসের তিন বছর পর পুঁজিবাজারে আবার নতুন করে যাত্রা শুরুর প্রত্যাশায় ডিএসই নতুন সূচক ডিএসইএক্স চালু করে।

২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি এই সূচকে প্রথম লেনদেন হয়। ওই দিন ৪০৫৫ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে ডিএসইএক্স।

পরের প্রায় চার বছরে ব্যাপক উত্থান পতন শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর নতুন এই সূচকটি ৬ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে যায়। এরপর আবার দীর্ঘ সময় ধরে পতনের মধ্যেই ছিল বাজার।

অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে সাম্প্রতিক বেশ কয়েক মাস ধরে আবার কিছুটা চাঙ্গা অবস্থা দেখা দেয় উভয় পুঁজিবাজারে। সেই ধারাবাহিকতায় অবশেষে রোববার ২০১৭ সালের রেকর্ড উচ্চতাকে ছাপিয়ে আরও উপরে এগিয়ে গেল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

ডিএসই ওয়েবসাইটে নতুন ও পুরনো সূচক

এর আগে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিজিএন ২০১০ সালে ধসের আগে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯১৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে উঠেছিল। এই সূচক গণনা ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই বন্ধ করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জটি।

রোববার সূচকের উত্থানের পেছনে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ার বিষয়টি ভূমিকা রাখায় এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধনেও রেকর্ড হয়েছে। দিন শেষে বাজার মূলধন হয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৩১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সূচক ও বাজার মূলধনে নতুন ইতিহাস গড়ার দিনে শুরুর এক ঘণ্টা পরই কারিগরি জটিলতার মুখে পড়ে ডিএসইর লেনদেন।

রোববার ১১টা ৮ মিনিটের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া লেনদেন এক ঘন্টা ২০ মিনিট পর সাড়ে ১২টায় চালু হয়ে চলে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত।

এদিন সূচকের সঙ্গে এই বাজারে লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১৮ শতাংশ বা ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেড়েছে।

ডিএসইতে এদিন ১ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৭৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

রোববার প্রধান এই পুঁজিবাজারে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

এই বাজারে এদিন লেনদেন হওয়া ৩৭৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে মোট দর বেড়েছে ২১০টির এবং কমেছে ১৫০টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২০ দশমিক ‍শূন্য ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ৩১ দশমিক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩০৬ দশমিক শূণ্য ২ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

বেক্সিমকো লিঃ, এসএস স্টিল, ফু-ওয়াং সিরামিক, সাইফ পাওয়ার, শাইন পুকুর সিরামিক্স, এফবিএফআইএফ, লাফার্জহোলসিম, অ্যাক্টিভ ফাইন, ফরচুন সুজ ও পাওয়ার গ্রিড। 

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, লিগাসি ফুটওয়ার, ইনডেক্স এগ্রো, সমতা লেদার, আফতাব অটোস, আজিজি পাইপস, বিপিপিএল, জেমিনি সি ফুড, আইএসএন ও জাহিন স্পিনিং।   

দাম কমার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

তমিজুদ্দীন টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফ্যামিলিটেক্স, তুংহাই নিটিং, রূপালী ব্যাংক, আরএন স্পিনিং, আইটিসি, সাফকো স্পিনিং, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও আর্গন ডেনিমস।

এদিন ডিএসইতে কারিগরি জটিলতায় লেনদেন বিঘ্নিত হলেও চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতে স্বাভাবিকভাবে নির্দিষ্ট সময়েই লেনদেন শেষ হয়েছে।

এই বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৬০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।

রোববার এই বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ২ কোটি ৫ লাখ টাকা বেড়েছে।

মোট ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

সিএসইতে ৩২০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭০টির, কমেছে ১৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির দর।