ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ঈদের ছুটিতে গেল পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর মূল সূচক ঈদের ছুটির আগে আরও বেড়েছে; যদিও দিনের শুরুতে তা নিম্নমুখী হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে চালু ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন রোববার পৌঁছেছিল রেকর্ড উচ্চতায়। এই অবস্থান ধরে রাখা যাবে কিনা সেই সংশয় থেকেই দিনের প্রথমভাগের লেনদেনে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতে থাকলে সূচক কমে যায়।

পরে ব্যাংক ও বীমার শেয়ারে ভর করে হারানো সূচক ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বমুখী ধারাতেই কোরবানি ঈদের ছুটিতে যায় পুঁজিবাজার।

ঈদের ছুটিতে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার লেনদেন বন্ধ থাকবে। এরপর শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

আগামী রোববার ২৫ জুলাই আবার লেনদেন হবে দেশের পুঁজিবাজারে। ওই দিন লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ৩৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪০৫ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবচেয়ে উঁচুতে ডিএসই সূচক

ডিএসইতে সূচকে রেকর্ড  

ডিএসইএক্স গণনা শুরু হয় ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর এই সূচক ৬ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে যায়। রোববার ২০১৭ সালের হিসাবকে ছাড়িয়ে রেকর্ড করে ডিএসইএক্স।     

এর আগে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ডিজিএন। ২০১০ সালে ধসের আগে সেটি ইতিহাস সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯১৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে ওঠে।

ধসের রেশ কাটিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশায় ডিএসইএক্স চালু করা হয়। ডিজিএন একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয় ২০১৩ সালে ৩১ জুলাই।

সোমবার ডিএসইতে সূচক বাড়লেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ৫২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা কমেছে।

ঢাকায় এদিন ১ হাজার ২৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩ লাখ টাকা।

এদিক প্রধান এই পুঁজিবাজারে ৪৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।     

লেনদেন হওয়া ৩৭২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির এবং কমেছে ১৭৯টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩২২ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

সাইফ পাওয়ার, বিএটিবিসি, ফু-ওয়াং সিরামিক, পাওয়ার গ্রিড, বিকন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, রবি আজিয়াটা, জেনেক্স ইনফোসিস, লাফার্জহোলসিম ও এসএস স্টিল।   

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, পূরবী জেঃ ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ও সন্ধানী লাইফ।

দাম কমার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিঃ ফাঃ, জাহিন স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, শাইনপুকুর সিরামিক্স, এএফসি এগ্রো, বিবিএস, ইবিএল ফার্স্ট মিঃ ফাঃ, বিডি ল্যাম্পস ও সিএপিএম আইবিবিএল মিঃ ফাঃ। 

এদিন চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারেও সূচক বেড়েছে। 

নতুন সূচকে যাচ্ছে ডিএসই

প্রথমবারের মতো ৫ হাজারের ঘরে ডিএসই সূচক  

এই বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৯০ দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।

সোমবার এই বাজারেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কমেছে।

মোট ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

সিএসইতে ৩১৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১৪৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির দর।