একদিন পরই ঘুরলো পুঁজিবাজার

মহামারী ও লকডাউনের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটি ব্রোকারেস হাউজে বৃহস্পতিবার শেয়ার কেনাবেচায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
আগের দিনের বড় পতনের ধাক্কা কাটিয়ে বুধবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার; যদিও দিনের প্রথমভাগে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক কমেছিল ৩৬ পয়েন্ট।

সপ্তাহের চতুর্থ দিনের লেনদেনের একেবারে শুরুটা ছিল দ্রুত উত্থানের। প্রথম ১০ মিনিটেই প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়ে যায় ৫০ পয়েন্ট। এরপরই আসে শেয়ার বিক্রির ব্যাপক চাপ।

পরের ৫০ মিনিটে বেশিরভাগ শেয়ার দর হারাতে থাকলে ৩৬ পয়েন্ট সূচক কমলে আগের দিনের মত বড় পতনের শঙ্কা দেখা দেয়।

তবে বেক্সিমকো লিমিটেডসহ আস্তে আস্তে কিছু বড় মূলধনী কিছু কোম্পানি ও ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে হারানো পয়েন্ট ফির পায় সূচক।

এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে থাকলে শেষ পর্যন্ত আর নিম্নমুখী হতে দেখা যায়নি ডিএসইএক্সকে।

শেষ পর্যন্ত দিন শেষে প্রধান এ সূচক আগের দিন থেকে ৫৬ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ১৯৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসই এর মত সূচক বেড়েছে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ- সিএসইতেও। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৪৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২১ হাজার ১ দশমিক ৬২ পয়েন্টে।

বুধবার ডিএসইতে লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে। আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১০৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে শেয়ার লেনদেন হয় ২ হাজার ৯৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এদিন এ বাজার লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৭টির ও কমেছে ১৫৩টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টির দর। শতাকরা হিসেবে অবশ্য ৪৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১২ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৬৮ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ৩৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ৫টি কোম্পানি

বেক্সিমকো লিঃ, লংকাবাংলা, বেক্সিমকো ফার্মা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও ইসলাসিক ফাইন্যান্স।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ৫টি কোম্পানি

ডমিনেজ স্টিল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, দেশ গার্মেন্টস, এএমসিএল (প্রাণ) ও বিডি ল্যাম্পস।

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ৫টি কোম্পানি

কেটিএল, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, সাফকো স্পিনিং, ওয়ালটন ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।

দেশের অপর বাজার সিএসইতে ৩১৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির দর।

বুধবার এই বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়েছে।

এদিন মোট ৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৮ কোটি ২ লাখ টাকা।