তিন বছরে ৪% শেয়ার ছাড়তে চায় ওয়ালটন, কমছে দাম

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশের পর তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ আগামী তিন বছরে ৪ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়তে চায়।

বর্তমানে অফলোড করা শুন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে আরও ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ শেয়ার যোগ হলে ওই সময় শেষে বাজারে ওয়ালটনের শেয়ার হবে ৫ শতাংশ।

আর এর তিন বছর পর বর্তমানে কোম্পানিটির পরিচালকদের হাতে থাকা মোট ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি শেয়ারের মধ্যে আরও ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ালটনের পর্ষদ।

পর্ষদের এ সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার শেয়ার ছাড়তে সময় বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএসইসিতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন কোম্পানিটির কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সময় বাড়ানোর বিষয়ে কমিশন মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়ে আবেদন করতে বলেছে।

গত রোববার বিএসইসি ওয়ালটনসহ বার্জার ও আইসিবিকে এক বছরের মধ্যে বাজারে তাদের শেয়ার সংখ্যা মোট ১০ শতাংশ করতে আরও শেয়ার ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে মাসে ১ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।

এ তিনটি ছাড়া বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া আছে। চাঙ্গা বাজারে শেয়ার সংখ্যা বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে।

তবে এ খবরের পর থেকে চার দিনে ওয়ালটনের শেয়ারের দাম কমেছে ১২ শতাংশ। বুধবার দিন শেষে শেয়ারদর ছিল ১ হাজার ২৬৬ টাকা ১০ পয়সা। মঙ্গলবারের সর্বশেষ দর ছিল ১ হাজার ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সা। আর গত বৃহস্পতিবার দাম ছিল ১ হাজার ৪৪৭ টাকা ৪০ পয়সা।

প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরু হয় কোম্পানিটির।ওই সময় ওয়ালটনের বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্তির তিন মাসের মাথায় বাজার মূলধনেরভিত্তিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি হয়ে যায় এটি। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাজার মূলধন ছিল ৩৩ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

আইসিবি, ওয়ালটন, বার্জারকে আরও শেয়ার বাজারে ছাড়ার নির্দেশ  

ওই সময় ৪৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা নিয়ে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের কোম্পানি ছিল গ্রামীণফোন।

তালিকাভুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ালটনের পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার তিন বছর লকইন রয়েছে। সাধারণ নিয়মে এ সময় উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। এর মধ্যে এক বছর চলে গেছে।

তবে বিএসইসর বিশেষ নির্দেশনার কারণে পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে।

কোম্পানিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “লকইন পিরিয়ডে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকের হাতে থাকা শেয়ার বাজারে ছাড়ার নিয়ম নেই। কিন্তু বিএসইসির অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় আরও শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে ওয়ালটনের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা একমত হয়েছেন।

“অফলোড করা শেয়ার থেকে প্রাপ্ত অর্থ তারা নতুন শিল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।”

ওয়ালটনের কোম্পানি সচিব রফিকুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএসইসি থেকে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে বলার পর শেয়ারের দাম কমতে থাকে। পরে আমাদের পর্ষদ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিএসইসিতে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।“

কোম্পানিটির আবেদনের বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত- উল-ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওয়ালটন মৌখিকভাবে শেয়ার ছাড়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। তারা বলেছে এখন টাকা নিলে বিনিয়োগ করতে পারবে না। আমরা তাদেরকে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলেছি।”