প্রথম প্রান্তিক: ওষুধ খাতের লাভের জোয়ারে লোকসানে শুধু তিন কোম্পানি 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্চ ভবন। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানি প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে।

অধিকাংশের ভালো করার খবরের মধ্যেও এ খাতের তিনটি কোম্পানি লোকসান কাটাতে পারেনি। তবে একটি লোকসান কাটিয়ে প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় ফেরার তথ্য দিয়েছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ২১টি ২০২১-২২ হিসাব বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এগুলোর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা করেছে; যার মধ্যে ১৫টির মুনাফা বেড়েছে এবং তিনটির কমেছে।

এর মধ্যে লোকসান কাটিয়ে মুনাফা ফিরেছে গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল। আর তিন কোম্পানি- সেন্ট্রাল ফার্মা, ফার কেমিক্যাল ও বেক্স সিনথেটিক লোকসান থেকে বের হতে পারেনি।

অপরদিকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে মুনাফা কমেছে একমি পেস্টিসাইড, ওরিয়ন ফার্মা ও সিলভা ফার্মার।

এসময়ে সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখিয়েছে ওষুধ কোম্পানি রেনেটা লিমিটেড। প্রথম প্রান্তিকে ইপিএসের পরিমাণ ছিল ১৪ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি।

ইপিএসে এর পরের অবস্থান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা ৬৪ পয়সা মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মুনাফা ভালো দেখানোর তালিকায় আছে এসিআই লিমিটেড, এসিআই ফর্মুলেশনস, একমি ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইবনে সিনা ও কোহিনূর কেমিক্যাল।

প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিগুলোর ভালো করার বিষয়ে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান কোম্পানিগুলোর ওষুধ বিক্রি বেড়ে যাওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য, গত হিসাব বছরের (২০২০-২১) প্রথম প্রান্তিকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় চিকিৎসা সেবায় কিছুটা স্থবিরতা ছিল। চলতি হিসাব বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তা কাটিয়ে প্রচুর ওষুধ বিক্রি হয়েছে বলে কোম্পানিগুলো তথ্য প্রকাশ করেছে।

বস্ত্র খাত: রমরমা মুনাফা অনেক কোম্পানির, লভ্যাংশও বেড়েছে  

“এ কারণে গত প্রান্তিকের তুলনায় এ প্রান্তিকে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে,” যোগ করেন তিনি।

গত জুনে শেষ হওয়া হিসাব বছরেও (২০২০-২১) ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায় উল্লম্ফন হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তালিকাভুক্ত ৩২টির মধ্যে ২৪টি কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার মতো।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে এই ২৪টি কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা হয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকার মতো, যা আগের বছর থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। এগুলোর মধ্যে ১৫টির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

এসব কোম্পানির মধ্যে ১১টি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে লভ্যাংশের পরিমাণও বাড়িয়েছে। চারটি আগের তুলনায় কম লভ্যাংশ দিয়েছে এবং ৯টি আগের বছরের সমান লভ্যাংশ দিয়েছে।

২০২০-২০২১ অর্থবছর শেষে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে স্কয়ার ফার্মা, আগের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

অন্যগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মা ৫১২ কোটি টাকা, রেনেটা ৫০৬ কোটি ও ম্যারিকো বাংলাদেশ ৩১০ কোটি টাকা মুনাফা করে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানির মুনাফা-লভ্যাংশ

কোম্পানি

প্রথম প্রান্তিক

২০২১-২০২২

প্রথম প্রান্তিক

২০২০-২০২১

লভ্যাংশ-মুনাফা

২০২০-২১

লভ্যাংশ-মুনাফা

২০১৯-২০

এসিআই লিমিটেড

৩.৯৩ টাকা

 

১.৫৪ টাকা

৩৪.৭১ কোটি টাকা; ৬৫% নগদ ও ১৫% স্টক

- ১০৫.৮৮ কোটি টাকা (লোকসান); ৮০% নগদ ও ১০% স্টক

এসিআই ফর্মুলেশনস লি:

১.১৭ টাকা

৪২ পয়সা

২১.৩৩ কোটি টাকা; ৩০% নগদ ও ৫% স্টক

৯.২৭ কোটি টাকা; ২০% নগদ

দি এক্‌মি ল্যাবরেটরিজ

২.৭৭ টাকা

১.৯৬ টাকা

১৫৭.০১ কোটি টাকা; ২৫% নগদ

১৪৫.০৫ কোটি টাকা; ২৫% নগদ।

একমি পেস্টিসাইড

৪৭ পয়সা

৪৮ পয়সা

২২.২১ কোটি টাকা

 

 

 

 

 

 

অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড

৪০ পয়সা

৩৭ পয়সা

১১.৩২ কোটি টাকা; ২% নগদ ও ২ % স্টক

১১.৭০ কোটি টাকা; ১০% স্টক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস

৩.২৮ টাকা

২.৪১ টাকা

৫১২.৫৮ কোটি টাকা; ৩৫% নগদ

৩৫১.৪৭ কোটি টাকা; ১৫% নগদ ও ১০% স্টক

বেক্সিমকো সিনথেটিক্স

- ৪৭ পয়সা লোকসান

- ৮৫ পয়সা লোকসান

-১১.৯৭ কোটি টাকা (লোকসান); লভ্যাংশ নেই

-৭৯.৮১ কোটি টাকা; লভ্যাংশ নেই

সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস

- ৮ পয়সা

লোকসান

- ৮ পয়সা

লোকসান

-৮৪ লাখ টাকা (লোকসান); লভ্যাংশ নেই

-১১০.৭০ কোটি (লোকসান); লভ্যাংশ নেই

ফার ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ

- ৩ পয়সা

লোকসান

- ১ পয়সা

লোকসান

-৩.৪৯ কোটি (লোকসান); ১% নগদ লভ্যাংশ

৭.২১ কোটি টাকা; ১% নগদ লভ্যাংশ

গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস

২ পয়সা

- ৩৪ পয়সা

লোকসান

-৫.১৮ কোটি টাকা; ৫% নগদ

১.৮ কোটি টাকা; ৫% নগদ

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল

৪.৫৪ টাকা

৩.২৫ টাকা

৪৮.৯৩ কোটি টাকা; ৪৭% নগদ

৩৯.২৫ কোটি টাকা; ৩৮.৫% নগদ

ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস

৩৪ পয়সা

৩৩ পয়সা

১৩.৪২ কোটি টাকা; ৪% নগদ, ৩% স্টক

১৫.৬২ কোটি টাকা; ৪.৫% নগদ, ২% স্টক

 

 

 

 

 

জেএমআই সিরিঞ্জস ও মেডিকেল ডিভাইস

৮৬ পয়সা

৮০ পয়সা

৮.৯১ কোটি টাকা; ৩০% নগদ

৯.৬০ কোটি টাকা; ৩০% নগদ

 

 

 

 

 

কোহিনূর ক্যামিকেলস

২.৭২ টাকা

২.৫৬ টাকা

২৩.৪০ কোটি টাকা; ৩৫% নগদ ও ১৫% স্টক

১৬.৮০ কোটি টাকা; ৩৫% নগদ, ১০% স্টক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ওরিয়ন ইনফিউশন

৭২ পয়সা

৪৭ পয়সা

২.৭৯ কোটি টাকা; ১০% নগদ

২.৯৭ কোটি টাকা;  ১০% নগদ

ওরিয়ন ফার্মা

৩০ পয়সা

৮২ পয়সা 

৯৩.৮৩ কোটি টাকা; ১২% নগদ

৬৬.৫৭ কোটি টাকা; ১০% নগদ

ফার্মা এইডস

৫.১৫ টাকা

৪.০১ টাকা

৫.০৩ কোটি টাকা; ৫০% নগদ

৫.২৫ কোটি টাকা; ৫০% নগদ

 

 

 

 

 

রেনেটা

১৪.১৯ টাকা

১২.৭০ টাকা

৫০৬.১৫ কোটি টাকা; ১৪৫% নগদ ও ১০% স্টক

৪০১.২১ কোটি টাকা; ১৩০% নগদ ও ১০% স্টক

স্যালভো ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ

৫৫ পয়সা

২০ পয়সা

২.২১ কোটি টাকা; ২% নগদ

১.৯৭ কোটি টাকা; ১% নগদ

 

 

 

 

 

সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস

২৯ পয়সা

৩৫ পয়সা

১২.০১ কোটি টাকা;  ৫% নগদ

১১.৮৯ কোটি টাকা; ৫% নগদ

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লি

৫.৬৪ টাকা

৪.৪৪ টাকা

১৫৯৪.৭৩ কোটি টাকা; ৬০% নগদ

১৩৩৫.৪৪ কোটি টাকা; ৪৭% নগদ ও ৫% স্টক