এক মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় পতন

টানা পতনের মধ্যে থাকা দেশের পুঁজিবাজারে আবার সূচকে বড় দরপতন হয়েছে।

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ২৫৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় প্রধান সূচক প্রায় ৯৬ পয়েন্ট কমেছে।

একক দিনে এ পতন গত এক মাসের মধ্যে বেশি। এর আগে এরচেয়ে বেশি পতন হয় গত ২৫ অক্টোবর। সেদিন সূচক কমেছিল ১২০ পয়েন্ট।

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের চার দিনে ডিএসইএক্স সূচক ১৭৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে।

বুধবারের দরপতনের পেছনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে নানান গুজব ছড়িয়ে যায়। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার আশঙ্কা হতে পারে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হয়, যার প্রভাব পড়েছে লেনদেনে।

পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া বাজারে এ খবরে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত বড় পতন হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, নানা খবরের প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারে পড়ছে। আজকে সকালে বাজার ভালো ছিল, কিন্তু এরপরই বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সূচক কমে যায়।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বুধবার প্রথম ৩০ মিনিটে ডিএসই সূচক আগের দিন থেকে ৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়।এরপরই সূচক কমতে থাকে।

দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ৯৬ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৯১৭ দশমিক ৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দেশের অপর বাজার সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৪৬ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২০ হাজার ২৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।

বুধবার ঢাকায় সূচকের সঙ্গে লেনদেনও কমেছে আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বা ১৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এদিন এক হাজার ১২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৩১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এদিন ৩৬৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির ও কমেছে ২৫৯টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টির দর। শতকরা হিসাবে ৭১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এর বিপরীতে ২১ শতাংশের দাম বেড়েছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৫২     পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ২৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৩১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

ওয়ান ব্যাংক, বেক্সিমকো লিঃ, আইএফআইসি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সাইফ পাওয়ার, এনআরবিসি ব্যাংক, ফরচুন সুজ ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০টি

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, একমি পেস্টিসাইড, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, এম আই সিমেন্ট, আইসিবি সোনালী ওয়ান মিঃ ফাঃ, প্যাসিফিক ডেনিমস, অগ্নি সিস্টেমস, এনভয় টেক্সটাইল ও সোনালী পেপার।

বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানি

এল আর গ্লোবাল মিঃ ফাঃ,  কাট্টলী টেক্সটাইল, প্রিমিয়ার লিজিং, জেমিনী সি ফুড, হামিদ ফেব্রিক্স, তমিজুদ্দীন টেক্সটাইল, বিআইএফসি, এডিএন টেলিকম, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিঃ ফাঃ ও আইএফআইসি ব্যাংক।

এদিন চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতে ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৭টির, কমেছে ১৭১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির দর।

বুধবার এ বাজারে সূচক কমলেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বেড়েছে।

এদিন মোট ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।