ঊর্ধ্বমুখী থাকল না সূচক, ফের বড় পতন

পতনের বাজারে আগের দিনের ঊর্ধ্বমুখী রেশ বজায় ছিল শুধু দিনের শুরুতেই; এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে প্রায় সব খাতের শেয়ারদর কমতে থাকায় আবার বড় পতন দেখেছে দেশের উভয় পুঁজিবাজার।

শেষ পর্যন্ত সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯২ পয়েন্ট।

এ নিয়ে সবশেষ আট কার্যদিবসের মধ্যে সাতদিনে সূচক কমেছে ৩৮৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট। শতাংশের হিসাবে যা ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

গত ১৮ নভেম্বর এ সূচকের অবস্থান ছিল ৭ হাজার ৯১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। মঙ্গলবারের বড় পতনে তা নেমেছে ৬ হাজার ৭০৩ দশমিক ২৬ পয়েন্টে।

এদিন দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার সিএসইতেও ব্ড় পতন হয়েছে। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৬২ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৯ হাজার ৬১৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে।

ডিএসইতে মঙ্গলবার শুরুটা হয়েছিল ইতিবাচকভাবেই। আগের দিনের মতো সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে থাকেন।

এতে প্রথম আধা ঘণ্টায় আগের দিন থেকে ডিএসইএক্স বেড়ে যায় ৪০ পয়েন্ট। এরপরই কমতে থাকে সূচক, যা ২ ঘণ্টার মাথায় আগের দিন থেকে কমে যায়। আর বাকি সময়ে গণহারে শেয়ার বিক্রি শুরু হলে সূচকের নিম্নমুখী ধারা আর থামেনি বরং তীব্র হয়েছে।

এতে দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ৯২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে যায়।

তবে এদিন লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। আগের দিনের তুলনায় ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বা ৪৩৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেড়েছে লেনদেন।

ঢাকায় এদিন এক হাজার ১৪৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৭০৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার ডিএসইতে ৭২ শতাংশ কোম্পানির দাম কমেছে। এর বিপরীতে ১৮ শতাংশের দাম বেড়েছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেন হওয়া ৩৭১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টির ও কমেছে ২৬৬টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২৫ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪০৫     পয়েন্টে দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।

ডিএস৩০ সূচক ৫১ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৫১৬ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

ওয়ান ব্যাংক, বেক্সিমকো লিঃ, বেক্সিমকো ফার্মা, আইএফআইসি ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, অরিয়ন ফার্মা, বিএটিবিসি, জেনেক্স ইনফোয়েস ও ফরচুন সুজ।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০টি

ওরিয়ন ইনফিউশন, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইড, ন্যাশনাল লাইফ, ওয়ান ব্যাংক, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আমান কটন ফেব্রিক্স, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, এসকে ট্রিমস ও বিডি থাই।

বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানি

আরামিট সিমেন্ট, এইচআর টেক্স, এনআরবিসি ব্যাংক, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ টেক্সটাইল, জেনারেশন নেক্সট, জেনেক্স ইনফোয়েস, শাহজীবাজার পাওয়ার, এটলাস বাংলা ও মিথুন নিটিং।

এদিন সিএসইতে ২৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ১৮৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির দর।

এ বাজারেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেড়েছে।

মোট ৫০ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৩৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।