পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক, বললেন কমিশনার

পুঁজিবাজারে টানা পতনের প্রেক্ষাপটে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ এবং পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ইতিবাচক সাড়া’ মিলেছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকালে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধিদের ঘণ্টা দুয়েক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের কিছু বিষয় নিয়ে এ দুই সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু দিন থেকে মতভেদ চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিয়েছে।

দেশের দুই বাজারে সাম্প্রতিক টানা দরপতনের পেছনে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার টানাপড়েন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপগুলোকে বড় করে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবারও উভয় পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯২ পয়েন্টের বেশি। বৈঠকে কী হবে- তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় থাকার প্রভাব পড়েছে লেনদেনে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের বৈঠকে বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের হিসাবের বাইরে রাখা এবং শেয়ারে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে হিসাব করার প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক সাড়া’ পাওয়ার কথা জানান বিএসইসির কমিশনার শামসুদ্দিন।

বৈঠকে বিএসইসির পক্ষে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক শামসুদ্দিন; সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান; তার সঙ্গে ছিলেন অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

বৈঠক শেষে শামসুদ্দিন বলেন, “আলোচনাটি খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আজকে আমরা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছি, সবগুলোতে খুব ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

ঊর্ধ্বমুখী থাকল না সূচক, ফের বড় পতন  

“তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডে বাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যে না রাখতে। এতে বাংলাদেশের বন্ড বাজার বড় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।”

তিনি জানান, এ ছাড়া পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাজারমূল্যে হিসাব করা হয়। অন্যান্য দেশে এ হিসাব ‘বিনিয়োগ কস্ট প্রাইসে’ হিসাব করা হয় বলে আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলোতে আলোচনা হয়েছে, সামনে এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্যাংক, যেগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

ব্যাংকের এ বিনিয়োগসীমার মধ্যে ব্যাংকের ধারণ করা সব ধরনের শেয়ার, ডিবেঞ্চার, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নির্দেশনাপত্রের বাজারমূল্য ধরে মোট বিনিয়োগ হিসাব করা হয়।

এরমধ্যে শেয়ারে বিনিয়োগ বাজারমূল্যে হিসাব করা হলে এবং বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখলে ব্যাংকের বিনিয়োগ করার ক্ষমতা বাড়বে।