ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বড় পতন

বড় দরপতনে টানা পাঁচ দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছেদ পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে; এতে একদিন পরই আবার সাত হাজার পয়েন্ট মাইলফলকের নিচে নেমে গেছে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

বুধবার এ বাজারের প্রধান সূচকটি কমেছে একশ পয়েন্টের কাছাকাছি। দেড় মাসের মধ্যে একক দিনে শতাংশের হিসাবে এ পতন ছিল সর্বোচ্চ।

আগের বেশ কয়েক দিনের প্রবণতার বিপরীতে এদিন শুরু থেকেই ডিএসইএক্স সূচক ছিল নিম্নমুখী। অন্যান্য দিন শুরুতে সূচক বাড়লেও বুধবার প্রথম আধা ঘণ্টাতেই ৩০ মিনিটে এ সূচক আগের দিন থেকে ৩৩ পয়েন্ট কমে যায়।এর পরের দেড় ঘণ্টায় সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট উপরে ওঠে।

তবে মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় পতন হয় ডিএসইতে। একপর্যায়ে একশ পয়েন্টের বেশি সূচক কমলেও দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৯৫২ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এ পতন শতাংশের হিসাবে গত দেড় মাসের মধ্যে বেশি। এর আগে এর চেয়ে বেশি পতন হয়েছিল গত ২৫ অক্টোবর। সেদিন সূচক কমেছিল ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আগের দিন মঙ্গলবার ১৫ দিন পর ডিএসইএক্স ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। বড় এ পতেন তা আবার নিচে নেমে গেছে।

এদিন ব্ড় দরপতন হয়েছে অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৫০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ২০ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৪০ পয়েন্টে।

বুধবার ঢাকায় সূচকের সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ১৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কমেছে।

ডিএসইতে মোট এক হাজার ১৫২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৩৩১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

৭ হাজারের উপরে ফের ডিএসই সূচক  

এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৭৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৭টির এবং কমেছে ২৫৭টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দর।

শতাংশের হিসেবে ৬৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এর বিপরীতে ২৬ শতাংশের দাম বেড়েছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৬৭ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ৩৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬২১ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি

বেক্সিমকো লিঃ, আইএফআইসি ব্যাংক, জিএসপি ফাইন্যান্স, ওয়ান ব্যাংক, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোনালী পেপার, ডেল্টা লাইফ, পাওয়ার গ্রিড ও অ্যাক্টিভ ফাইন।

দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০টি

ফাইন ফুডস, ফু-ওয়াং ফুড, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, এফএএস ফাইন্যান্স, দেশ গার্মেন্ট, সেন্ট্রাল ফার্মা, ফার্মা এইড, অ্যাম্বি ফার্মা, অ্যাপলো ইস্পাত ও এএমসিএল (প্রাণ)।

বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানি

দুলামিয়া কটন, আরামিট সিমেন্ট, আমরা নেট, ওয়ান ব্যাংক, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, হামিদ ফেব্রিক্স, মালেক স্পিনিং ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক।

এদিন সিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ২৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮২টির, কমেছে ১৮৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।

সূচক কমলেও এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বা ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেড়েছে।

মোট ৫৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।