সাত হাজার পয়েন্ট ছাড়াল ডিএসই সূচক

টানা পতন কাটিয়ে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর সূচক আবার সাত হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে; লেনদেনও পৌঁছেছে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি।

আগের দিনের ধারা বজায় রেখে সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার সূচকের বড় উত্থান এ মাইল ফলক পেরিয়ে যেতে সহায়তা করে।

এদিন লেনদেনের শুরুটাও হয়েছিল উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে।   প্রথম আধা ঘণ্টাতেই সূচক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়েই লেনদেন চলে পরবর্তী দুই ঘণ্টা।

মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিন থেকে ৫৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

সব মিলিয়ে এক মাস পর দেশের প্রধান এ সূচক ৭ হাজার ছাড়াল। সূচকের এ অবস্থান গত এক মাস ২০ দিনের মধ্যে বেশি। এর আগে এর চেয়ে সূচক বেশি ছিল গত বছরের ২১ নভেম্বর। সেদিন সূচকের অবস্থান ছিল ৭ হাজার ৮৬ পয়েন্ট।

এরপর থেকে টানা পতনের মধ্যে ছিল বাজার, যা নতুন বছরের প্রথম লেনদেন থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে।

এদিন সূচকে বড় উত্থান হয়েছে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতেও। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৮৯ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ২০ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে।

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনও বেড়ে দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ বা ৪৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বেড়েছে।

মোট এক হাজার ৯৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

মঙ্গলবারের লেনদেন ছিল গত তিন মাসের মধ্যে বেশি। এর আগে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয় গত বছরের ৭ অক্টোবর। সেদিন লেনদেন ছিল দুই হাজার ৪৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এদিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৯টির এবং কমেছে ১৪৬টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টির দর।

ঢাকার অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।

ডিএস৩০ সূচক ২০ দশমিক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬২৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

পাওয়ার গ্রিড, বেক্সিমকো লি., তিতাস গ্যাস, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, জিপিএইচ ইস্পাত, ডেল্টা লাইফ,  লাফার্জ হোলসিম, জিএসপি ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

দাম বাড়ার শীর্ষ ১০

ইস্টার্ন ক্যাবল, তিতাস গ্যাস, ন্যাশনাল টিউবস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, আরএকে সিরামিকস, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, বসুন্ধরা পেপার মিলস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, বিবিএস ক্যাবল ও ইফাদ অটোস।

দর হারানো শীর্ষ ১০

খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, রুপালী লাইফ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এমারেল্ড অয়েল, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড, ডেল্টা লাইফ, পদ্মা লাইফ, মেঘনা লাইফ, সোনালী লাইফ ও অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

এদিন সিএসইতে ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৫টির, কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টির দর।

এ বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ বা ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বেড়েছে।

এদিন মোট ৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।