কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রাকে জি৭-এর সবুজ সংকেত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল মুদ্রা প্রশ্নে প্রাথমিক নির্দেশিকা দিয়েছে জি৭ জোটের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। বিশ্বে ‘পশ্চিমা গণতান্ত্রিক’ শীর্ষ সাত দেশের এই জোটের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে বিবেচনা করা হচ্ছে ডিজিটাল মুদ্রা প্রযুক্তির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে।

জি৭ প্রতিনিধিদের পক্ষে ডিজিটাল মুদ্রা প্রশ্নে প্রাথমিক নির্দেশিকা বুধবার আসার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। জি৭ বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কোনো ডিজিটাল মুদ্রার প্রচলন করলে নিশ্চিত করতে হবে যে, সেটি অবশ্যই ওই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মূল উদ্দেশ্য “সম্পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি যেন কোনো ক্ষতি না করে”।

বুধবারের বৈঠক শেষে জি৭ প্রতিনিধিরা বলছেন, বাজারে প্রচলন হলে, ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (সিবিডিসি)’ নগদ অর্থের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং সরাসরি নগদ অর্থ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

সিবিডিসি সম্পদ নিয়ে রেষারেষির নিরাপদ সমাধান এবং লেনদেনে ব্যবস্থার নোঙর হিসেবে ব্যবহৃত হবে-- এমনটাও বলেছেন জি৭ প্রতিনিধিরা। 

বুধবারের বৈঠকে জি৭ আরও সিদ্ধান্তে এসেছে, ডিজিটাল মুদ্রার প্রচলনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সেটি যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ড ও নীতিমালার পরিপন্থি না হয় এবং গোপনতা, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে জবাবদিহিতার প্রশ্নে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখে।

“যে কোনো সিবিডিসি-কে আইনের শাসন, নিরাপদ অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”

জি৭ জোটের দেশগুলো বলছে, সিবিডিসি আন্তঃসীমান্ত লেনদেন সহজ করলেও, “আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর এর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার দায়িত্ব” তাদের সবার উপরই বর্তায়।  

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তোড়জোড় বাড়িয়েছে। চেষ্টা চলছে আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের গতি বাড়ানোর।

রয়টার্স বলছে, ডিজিটাল মুদ্রা প্রচলন খাতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। অন্যদিকে, জি৭ জোটের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চেষ্টা করছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সাধারণ মান প্রতিষ্ঠা করার। ইতোমধ্যে সিবিডিসি নিয়ে পরীক্ষামূলক কর্মকাণ্ডও শুরু করেছে কয়েকটি ব্যাংক।