চীনে লিংকডইন সেবা বন্ধ করে দেবে মাইক্রোসফট

ছবি: রয়টার্স
চীন থেকে লিংকডইন সেবা গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট কর্পোরেশন। চালু করার প্রায় সাত বছরের মাথায় ইন্টারনেট খাতে “চীন সরকারের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে” দেশটি থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া সর্বশেষ মার্কিন সামাজিক মাধ্যম হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার এক ব্লগ পোস্টে লিংকডইন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষভাগে লিংকডইনের বর্তমান প্ল্যাটফর্মটির জায়গায় আসবে ‘ইনজবস’ নামের একটি অনাড়ম্বর সংস্করণ। এতে কোনো সোশাল ফিড বা শেয়ার অপশন থাকবে না; শুধুমাত্র চাকরির পোস্টের উপরই জোর দেবে নতুন সাইটটি।

“যদিও আমরা চীনের ব্যবহারকারীদের চাকরি ও আর্থিক সুযোগ খুঁজতে সহযোগিতায় সাফল্য পেয়েছিলাম, শেয়ারিং এবং অবগত থাকার মতো সামাজিক দিকগুলো নিয়ে একই রকমের সাফল্য পাইনি আমরা। এ ছাড়াও কাজের পরিবেশ বিবেচনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি আমরা, চীন সরকারের চাহিদাও বেড়েছে।”--ব্লগ পোস্টে লিখেছে লিংকডইন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের বাজারে লিংকডইনের উপস্থিতি বিশেষজ্ঞদের জন্য অনেক দিক থেকেই কৌতুহল উদ্দীপক। চীনের বাজার কঠোরভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত; ইউটিউব, ফেইসবুক ও টুইটার নিষিদ্ধ দেশটিতে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটে একটি পশ্চিমা সোশাল মিডিয়া অ্যাপ পরিচালনার মডেল হিসেবে বিবেচিত হতো লিংকডইন।    

চীনের বাজারে লিংকডইনের যাত্রা শুরু ২০১৪ সালে। রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের নীতিমালার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যবহারকারীদের কিছু কন্টেন্টে যে নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে সেন্সর করতে হবে, সেই বিষয়টি ওই সময়েই স্বীকার করেছিলো প্রতিষ্ঠানটি।

কন্টেন্ট থেকে শুরু করে ক্রেতার প্রাইভেসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিমালায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নানাভাবে চাপ বাড়িয়েছে চীন সরকার। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচারে আরও ‍সক্রিয় হবে-- এমন চাহিদার কথাও তুলেছে চীন সরকার।

মার্চ মাসে চীনে ‘সাইন-আপ’ প্রক্রিয়া বন্ধ করে লিংকডইন বলেছিলো, চীনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। দুই মাস পরে লিংকডইনসহ ১০৫টি অ্যাপের বিরুদ্ধে বেআইনীভাবে ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহের অভিযাগ তুলেছিলো চীনের শীর্ষ নিয়ন্ত্রকসংস্থা।

চীনের বাজারে এখনও সক্রিয় রয়েছে মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিন বিং। চীনের কথিত ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’-এর ভেতর থেকে পশ্চিমা সার্চ ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা গেলেও চীন সরকারের কাছে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত কন্টেন্ট সেন্সর করা হয় ওই সার্চ ইঞ্জিনটিতে।