ফেইসবুক এবার ১৪ মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের তোপের মুখে

টিকা বিরোধী প্রচারণা এবং মিথ্যাচার প্রসঙ্গে এবার ১৪ মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের তোপের মুখে পড়েছে ফেইসবুক। সামাজিক মাধ্যমটিতে টিকা বিরোধী কন্টেন্টের প্রকাশকরা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে কি না, সেটি জানতে চেয়ে মার্ক জাকারবার্গের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই ১৪ অ্যাটর্নি জেনারেল।

সাবেক ফেইসবুক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেনের সিনেট সাক্ষ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলরা। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের একটি সাবকমিটির কাছে হাউগেন অভিযোগ তোলেন-- বিশেষ ব্যক্তিদের বাড়তি খাতির করে ফেইসবুক। এ ছাড়াও ফেইসবুকের বিরুদ্ধে মুনাফার লোভে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা অগ্রাহ্য করা, আর্থিক লাভের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি করা অ্যালগরিদমের ফলে সামাজিক বিভক্তি বাড়িয়ে সহিংসতার পথ প্রশস্ত করা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করায় অ্যালগরিদমের ভূমিকা রাখার অভিযোগ তুলেছেন হাউগেন।

ফেইসবুকের বিশাল সংখ্যক অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ও গবেষণা প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক কর্মী হাউগেন। তার একটা বড় অংশ তিনি তুলে দেন মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হাতে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ওই নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিলো, বিশেষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাটে না ফেইসবুকের কন্টেন্ট মডারেশন নীতিমালা। বরং, সেলিব্রেটি এবং রাজনীতিবিদদের জন্য ‘ক্রস-চেক’ নামের পৃথক একটি ব্যবস্থা কার্যকর রেখেছে ফেইসবুক।

রয়টার্স জানিয়েছে, ফেইসবুক কাণ্ডারী মার্ক জাকারবার্গের উদ্দেশ্যে ১৪ মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল চিঠি পাঠিয়েছেন বুধবার। ফেইসবুক বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা তালিকা বানিয়ে রেখেছে এবং তাদের বাড়তি খাতির করা হচ্ছে-- এমন খবর নিয়ে তারা “অত্যন্ত চিন্তিত” বলে লিখেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলরা। কথিত ‘ডিসইনফর্মেশস ডজন’ ওই তালিকার অন্তর্ভূক্ত কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন তারা।

ছবি: রয়টার্স

জাকারবার্গের উদ্দেশ্যে ওই চিঠি লিখেছেন কানেটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, আইওয়া, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্মন্ট এবং ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা।

মার্কিন ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইট’ ওই চিহ্নিত ‘ডিসইনফর্মেশন ডজন’-কে আখ্যা দিচ্ছে টিকা বিরোধী ১২ জন হিসেবে। বলা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সকল টিকা বিরোধী কন্টেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী ওই ১২ জন।

তবে ফেইসবুক ওই ১২ জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ডজন পেইজ, গ্রুপ এবং অ্যাকাউন্ট (ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) মুছে দেওয়ার দাবি করেছিলো আগেই। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ডোমেইনের উপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেইসবুক, টুইটার, এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কোভিড-১৯ ও টিকা নিয়ে ভুয়া প্রচারণা ও মিথ্যাচার বেড়েছে আনুপাতিক হারে। এই ধরনের কন্টেন্ট মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আইনপ্রণেতা ও গবেষকরা ফেইসবুকের কঠোর সমালোচনা করছেন বেশ কিছুদিন ধরেই।

জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ফেইসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে ভুয়া খবর নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে ছড়াতে দিয়ে “মানুষ মারছে”।