উন্নতি হলেও ’২৩-এর আগে কাটছে না চিপ সঙ্কট: ইনটেল প্রধান

ছবি: রয়টার্স
বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারের চিপ সঙ্কট থেকে শিগগিরই উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ইনটেল প্রধান; অন্তত ২০২৩ সাল পর্যন্ত চিপ সঙ্কট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনটেলের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক গেলসিঙ্গার বলেন, “এখনই আমরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছি। আগামী বছরের প্রতি প্রান্তিকে ক্রমান্বয়ে অবস্থার উন্নতি হতে থাকবে। কিন্তু, অন্তত ২০২৩-এর আগে চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য পাচ্ছি না আমরা।”

ইনটেল প্রধান চিপ সঙ্কট থেকে উত্তরণে আরও সময় লাগবে বললেও, এক্ষেত্রে বাজারে ইনটেলের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী এএমডি বেশ আশাবাদী বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ। অদূর ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থায় “টানটান অবস্থা” চললেও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে “২০২২ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে” বলে চলতি বছরের ‘কোড কনফারেন্সে’ মন্তব্য করেছিলেন এএমডি’র প্রধান নির্বাহী ড. লিসা সু।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে জিপিইউ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রায় একই আশার কথা জানিয়ে এনভিডিয়া বলেছে, “আগামী বছর অবস্থার উন্নতি হবে। তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বরং নতুন কারখানাগুলোর বদৌলতে ধীরে ধীরে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”   

সম্প্রতি নিজস্ব ‘ক্লায়েন্ট কম্পিউটিং গ্রুপে’র মুনাফা ২ শতাংশ হ্রাসের খবর জানিয়েছে ইনটেল। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের জন্য চিপ উৎপাদন করে ‘ক্লায়েন্ট কম্পিউটিং গ্রুপ’। একই সঙ্গে নোটবুকে বিক্রি কমেছে পাঁচ শতাংশ, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইনটেল চিহ্নিত করেছে “নোটবুক ইকোসিস্টেমের সীমাবদ্ধতাকে”।  ভার্জ বলছে, এই “নোটবুক ইকোসিস্টেমের সীমাবদ্ধতা” দিয়ে আদতে যন্ত্রাংশ সঙ্কটের কথাই উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে উৎপাদন খাতে যন্ত্রাংশ সঙ্কটের প্রতিফলন লক্ষণীয় ছিল বলে জানিয়েছে ভার্জ; এই কারণেই ল্যাপটপ বিক্রিতে এসেছে ধীর গতি।   

পুরো প্রযুক্তি বাজারে বিশেষ এক ধরনের চিপের ঘাটতি চলছে-- বিষয়টি এমন নয়। বরং বিভিন্ন সমন্বিত যন্ত্রাংশের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইনটেল প্রধান বলেন, “আমরা এগুলোকে ম্যাচ সেট বলি। যেমন, আমাদের হাতে সিপিইউ থাকলেও আপনার হাতে হয়তো এলসিডি নেই, অথবা ওয়াই-ফাই নেই। বিশেষ করে পাওয়ার চিপ ও কিছু নেটওয়ার্কিং বা ইথারনেট চিপ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ডেটা সেন্টারগুলো।” 

ভার্জ জানিয়েছে, ল্যাপটপ খাতে বিক্রি কমলেও, বিক্রি বেড়েছে ডেস্কটপ বিক্রিতে। ডেস্কটপ খাতে ইনটেলের মুনাফা বেড়েছে ২০ শতাংশ। তবে এতেও নোটবুক খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেনি ইনটেল। করোনা মহামারীর আগ পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে নিম্নমুখী ছিল ডেস্কটপ বিক্রির হার। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ফেরা শুরু করেছেন বিভিন্ন খাতের কর্মীরা। ফলে ইতোমধ্যেই ডেস্কটপ বিক্রিতে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভার্জ। 

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইটটি আরও জানিয়েছে, ল্যাপটপ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মুনাফা হ্রাস পেলেও, সবকিছু মিলিয়ে ইনটেলের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে এক হাজার আটশ’ ১০ কোটি ডলারে।

আরও পড়ুন