মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেবেন ইনস্টাগ্রাম প্রধান নির্বাহী

ইনস্টাগ্রামের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মোসেরি (মাঝে), অ্যাডাম মোসেরি’র ফেইসবুক পোস্ট থেকে
প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরি। ইনস্টাগ্রাম তরুণদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে কীভাবে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে, মার্কিন কংগ্রেসের কাছে সেই ব্যাখ্যা দেবেন তিনি।

সাবেক কর্মীদের ফাঁস করা নথিপত্র আর গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। মুনাফার লোভে কিশোর বয়সীদের উপর ফটো-ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটির বিরূপ প্রভাব অগ্রাহ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সে প্রসঙ্গেই মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেবেন বলে বুধবার জানিয়েছেন মোসেরি।  

টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিন সন্তানের বাবা মোসেরি বলেন, “এই বিষয়গুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যও এক। কমবয়সী সবাই অনলাইনে নিরাপদ থাকুক এমনটা চাই আমরা।”  

কংগ্রেসের সামনে হাজির হওয়ার দিনক্ষণ জানাননি মোসেরি। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে বলেছিলেন, ইনস্টাগ্রাম প্রধান ৬ ডিসেম্বর সিনেট কমিটির সামনে হাজির হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ফেইসবুকের সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেনের ফাঁস করা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, কিশোর বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইনস্টাগ্রামের বিরূপ প্রভাবে বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণাতেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ সিনেট কমিটির অধিবেশন ডেকে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিচ্ছেন ব্লুমেন্থাল। ওই দ্বিপক্ষীয় সিনেট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন ফ্রান্সেস হাউগেনও। 

সম্প্রতি নাম পাল্টে ‘মেটা প্ল্যাটফর্ম’ হওয়া ফেইসবুক শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাদের গবেষণা। ইনস্টাগ্রাম ও ফেইসবুকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাল্টা দাবি, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করে দেয় ইনস্টাগ্রাম; ক্ষেত্রবিশেষে শারীরিক গড়ন নিয়ে হীনমন্যতা মোকাবেলা করতে ভূমিকা রাখে-- এমন দাবিও করেছেন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা।

ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম নতুন টুল নির্মাণ নিয়ে কাজ চলছে বলেও দাবি করেছে ইনস্টাগ্রাম, এর মধ্যে নতুন ‘টেক এ ব্রেক’ ফিচারের কথা ইনস্টাগ্রামের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন। 

সেপ্টেম্বর মাসে সিনেট সাবকমিটির সামেন হাজির হয়েছিলেন ফেইসবুকের নিরাপত্তাবিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান অ্যান্টিগনি ডেভিস। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অক্টোবর মাসে আরেকটি বৈঠক ডেকেছিল ওই সিনেট সাবকমিটি, তাতে উপস্থিত ছিলেন স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের শীর্ষকর্মকর্তারা।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট বলছে, কেবল মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইনস্টাগ্রামের পেছনে লেগেছেন এমনটা নয়। ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা প্ল্যাটফর্ম’ ভোক্তা নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সেটি অনুসন্ধানে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন অন্তত নয়টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল।