ক্রিস্টিতে এবার এনএফটি নিলামে উইকিপিডিয়ার ‘প্রথম ভূক্তি’

ছবি: উইকিপিডিয়ার জনক জিমি ওয়েলেস। ছবি: রয়টার্স
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম যুগের ইন্টারনেট ইতিহাসের একটি অংশ আধুনিকতম মাধ্যমে কারো মালিকানায় যাবে।

এনএফটি বা নন ফাঞ্জিবল টোকেন আকারে ডিজিটাল মাধ্যম নিলামে তোলার চল শুরু হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই। ক্রিস্টি’জ নিলাম ঘর এবার তালিকায় উঠিয়েছে উইকিপিডিয়ার প্রথম সম্পাদিত ভূক্তি।

‘ক্রাউডসোর্সড’ এনসাইক্লোপিডিয়া সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস ২০ বছরেরও বেশি আগে যে সম্পাদনাটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে লেখা রয়েছে “হ্যালো, ওয়ার্ল্ড”।

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমারেখা টানা এই নিলামে জিমি ওয়েলেসের স্ট্রবেরি রঙের আইম্যাক কম্পিউটারও রয়েছে। সাইটটির শুরুর দিনগুলোতে তিনি এই কম্পিউটারেই কাজ করতেন।

এনএফটি বিক্রয় থেকে পাওয়া অর্থ ‘ডব্লিউটি ডটসোশাল’ তহবিলে যাবে। প্রচলিত সামাজিক মাধ্যমগুলোর বদলে বিষাক্ততামুক্ত নতুন প্ল্যাটফর্ম এটি। জিমি ওয়েলেস বলছেন, এটি বিজ্ঞাপনমুক্ত এবং অনুদাননির্ভর কাঠামোয় চলবে।

নন ফাঞ্জিবল টোকেন বা এনএফটি হলো স্পর্শযোগ্য নয় এমন ডিজিটাল সম্পদের মালিকানার সনদ। এনএফটি প্রযুক্তি দিয়ে ডিজিটাল শিল্পকর্মকে ‘টোকেনে' রূপান্তর করে করে মালিকানার ডিজিটাল সার্টিফিকেট তৈরি করা যায়, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বেচাকেনাও করা যায়। তবে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত শিল্পকর্মের মূল কপি বা কপিরাইট যায় না ক্রেতার হাতে। অর্থ কামাইয়ের প্রকল্প এবং পরিবেশবান্ধব নয় বলে এনএফটি সমালোচিতও হয়েছে ব্যাপকভাবে।

এরই মধ্যে জ্যাক ডরসির প্রথম টুইট, ‘ইন্টারনেটের জনক’ স্যার টিম বার্নার্স লি’র লেখা প্রথম এইচটিএমএল কোড, কার্টুন বানরের একটি এনএফটি সংগ্রহসহ বিভিন্ন উপকরণ বিভিন্ন মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে কার্টুন বানরের এনএফটি সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে দুই কোটি ৪৪ লাখ ডলারে।

ক্রিস্টিজ বলেছে, উইকিপিডিয়ার চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই এনএফটি’র চূড়ান্ত ক্রেতা কাজটি সম্পাদনা করতে পারবেন এবং চাইলে পুরোনো চেহারায় আবার ফিরিয়েও আনতে পরবেন।

২০০১ সালের পয়লা জানুয়ারি তারিখে যাত্রা শুরু করা উইকিপিডিয়া বর্তমানে ইন্টারনেটের অন্যতম বৃহৎ তথ্য ভাণ্ডার। এতে এখন ৬৪ লাখেরও বেশি নিবন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি ভাষায় প্রকাশিত এই সাইট তৈরিতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের অবদান রয়েছে।