কথিত উদ্ভাবকের হাতেই রইলো বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন

ছবি: ক্রেইগ রাইট
নিজেকে বিটকয়েনের উদ্ভাবক হিসেবে দাবি করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ক্রেইগ রাইট। ১১ লাখ বিটকয়েনের মালিক রাইটের অর্ধেক সম্পদের মালিকানা দাবি করে মামলা করেছিলেন তারই এক সাবেক সহকর্মীর পরিবার। রাইটের পক্ষে রায় দিয়েছে মায়ামির আদালত, তার হাতেই থাকবে পাঁচ হাজার চারশ’ কোটি ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন।

নিজের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ বিটকয়েনের অর্ধেক না দিতে হলেও বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাবেক সহকর্মী ডেভ ক্লেইম্যানের পরিবারকে ১০ কোটি ডলার দেবেন রাইট-- এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্লেইম্যান মারা গেছেন ২০১৩ সালে। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, ক্লেইম্যান এবং রাইট মিলে বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন উদ্ভাবন করেছিলেন, কিন্তু রাইট সেটি চুরি করে নেন।   

২০০৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিটকয়েন উদ্ভাবনের পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু নিবন্ধটির লেখক ছিলেন ‘সাতোশি নাকামোতো’। বিবিসি’র প্রতিবেদন বলছে, আদতে ছদ্মনামে প্রকাশ করা হয়েছিল নিবন্ধটি।

২০১৬ সাল থেকে নিজেকে নাকামোতো বলে দাবি করে আসছেন রাইট। তবে, তার দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

বিবিসি জানিয়েছে, রাইটের বিরুদ্ধে ক্লেইম্যানের পরিবার যতো অভিযোগ ছিল, তার প্রায় সবই নাকচ করে দিয়েছে মায়ামি’র আদালত। এক বিবৃতিতে ক্লেইম্যান পরিবারের আইনজীবীরা বলেন, আদালতের রায়ে তারা “অত্যন্ত কৃতজ্ঞ”।

আদালতের জুরি বোর্ড বাদীপক্ষকে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি ডলার ধার্য করায় “ডেভ যা সৃষ্টিতে সাহায্য করেছিলেন”, ক্লেইম্যান পরিবার  “তার সেই ন্যায্য পাওনা” পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ওই আইনজীবীরা।

আর রাইট বলছেন, তিনিই যে বিটকয়েনের উদ্ভাবক, আদালতের রায় থেকে সেই স্বীকৃতিই পেয়েছেন তিনি। “জুরিরা অবশ্যই আমাকে (প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে) পেয়েছে, তা না হলে জরিমানার কোনো বিষয় থাকতো না।” 

“এটা আসলেই খুব ভালো ফলাফল এবং আমার মনে হচ্ছে আমি পূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছি।”-- যোগ করেন তিনি।