‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ নিয়ে পরীক্ষা শুরু করছে ইনস্টাগ্রাম

ছবি- রয়টার্স
অর্থের বিনিময়ে গ্রাহক সেবা বা ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ সেবা চালু করতে যাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ হতে যাচ্ছেন হাতে গোনা কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা। এতে অর্থের বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্সারদের ‘এক্সক্লুসিভ কনটেন্টে’ প্রবেশাধিকার পাবেন সাবস্ক্রাইবাররা।

শুরুতে ১০ জন নির্মাতাকে নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি শুরু করছে ইনস্টাগ্রাম। তবে, ক্রমান্বয়ে আরো কনটেন্ট নির্মাতা এর সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ। শুরুতে বাস্কেটবল তারকা সেডোনা প্রিন্স, অলিম্পিয়ান জর্ডান চিলেস এবং জ্যোতিষী আলিজিয়া কেলি এর অংশ হবেন বলে জানিয়েছে সাইটটি।

‘সাবস্ক্রাইবার অনলি’ কনটেন্টের জন্য ভক্তদের মাসিক হিসাবে গাঁটের পয়সা খরচ করতে হবে। ওই ‘এক্সক্লুসিভ’ কনটেন্টের মধ্যে পড়বে নির্মাতাদের ‘লাইভ’ ভিডিও এবং ‘স্টোরিজ’। এ ছাড়াও সাবস্ক্রাইবারদের নামের পাশে বসবে একটি বেগুনী রঙের ব্যাজ যা দেখে তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারবেন কনটেন্ট নির্মাতারা।

এই সাবস্ক্রিপশনের খরচও নির্দিষ্ট নয়। ভার্জ বলছে, টিয়ার ভেদে প্রতি মাসে ০.৯৯ সেন্ট থেকে শুরু করে ৯৯ ডলার ৯৯ সেন্ট পর্যন্ত খরচ হবে সাবস্ক্রাইবারদের। আর সাবস্প্রিপশন সেবার মূল্য নির্ধারণের সুযোগ থাকবে কনটেন্ট নির্মাতাদের হাতে। আপাতত ইনস্টাগ্রাম নির্মাতাদের আয়ে ভাগ বসাবে না বলে জানিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের পণ্য বিষয়ক সহ-প্রধান অ্যাশলি ইউকি। অন্তত ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন, “নির্মাতাদের শৈল্পিক কাজের মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহের জন্য নতুন টুল নির্মাণ করতে পেরে এবং আরো বেশি নির্মাতাদের হাতে টুলগুলো পৌঁছে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।” নির্মাতাদের জন্য ফেইসবুকেরও নিজস্ব সাবস্ক্রিপশন সেবা আছে।

নতুন ফিচারটি নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। সাবস্ক্রিপশন সেবাটিকে ইনফ্লুয়েন্সার এবং নির্মাতাদের জন্য অনুমানযোগ্য আয়ের “সেরা মাধ্যমগুলোর একটি” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ফেইসবুক-ইনস্টাগ্রাম ছাড়াও সাবস্ক্রিপশন সেবার দিকে ঝুঁকছে বাজারের অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো। ২০২১ সালেই ‘সুপার ফলোস’ ফিচার চালু করেছে টুইটার। ভার্জ বলছে, বাজারের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক মাধ্যমগুলো টিকটকের মতো উঠতি প্ল্যাটফর্মের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে দেখছে সাবস্ক্রিপশন সেবাকে।