কনসোল যুদ্ধ: মাইক্রোসফটের তৎপরতায় বড় ধাক্কা সনির গায়ে

সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় ভিডিও গেইম নির্মাতা অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড কেনার ঘোষণা দিয়ে প্রযুক্তি শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। তবে মাইক্রোসফটের ঘোষণায় সবদিক থেকে যেন বিপাকে পড়েছে গেইমিং বাজারে মাইক্রোসফটের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী সনি।

মাইক্রোসফট অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড কিনছে, এই খবর প্রকাশের পর টোকিও’র শেয়ার বাজারে সনি’র দর পতন হয়েছে ১৩ শতাংশ। ২০০৮ সালের পর এতো বড় দর পতনের ঘটনা আর ঘটেনি সনির সঙ্গে।

তবে শেয়ার বাজারের দর পতনের চেয়েও সনি’র জন্য বড় মাথাব্যথা এখন গেইমিং শিল্পের ভবিষ্যত। গেইমিং খাতে কয়েক দশক ধরে চলছে মাইক্রোসফট বনাম সনি’র প্রতিদ্বন্দ্বীতা। ক্ষেত্রবিশেষে গেইমারদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে টানতে বড় বাজেটের গেইমগুলোর উপর নির্ভর করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।

মাইক্রোসফটের অধীনেই আছে বাজারের অন্যতম সফল গেইম ফ্র্যাঞ্চাইজ ‘হেলো’। কিন্তু অ্যাক্টিভিশন অধিগ্রহণের ফলে এখন ‘কল অফ ডিউট ‘ এবং ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ারক্র্যাফট’-এর মতো গেইমগুলোও যোগ হচ্ছে মাইক্রোসফটের লাইব্রেরিতে। এর সঙ্গে নতুন ৪০ কোটি গেইমারও পাচ্ছে মাইক্রোসফট।

অধিগ্রহণ চুক্তির ফলে আয়ের হিসেবে গেইমিং বাজারের তৃতীয় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে মাইক্রোসফট। শীর্ষস্থান দুটি আছে যথাক্রমে টেনসেন্ট ও সনি’র দখলে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাসিমেট্রিক অ্যাডভাইজর্স’-এর বাজার কৌশলী আমির আনভারজাদেহ বলছেন “তাপ বাড়ছে কনসোল যুদ্ধের।”

“সনি’র হাতে এখন এই যুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে থাকার স্মরণীয় চ্যালেঞ্জ।”-- নিজের গবেষণার নোটে লিখেছেন তিনি।

সনি’র সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির আয়ের এক তৃতীয়াংশই আসে গেইমিং খাত ও নেটওয়ার্ক সেবা থেকে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, সনি এবার গেইমিং খাতে মাইক্রোসফটের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে। বিশেষ করে অ্যাক্টিভিশনের ব্লিজার্ডের গেইমগুলোর কেবল মাইক্রোসফটের প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লে সনি পিছিয়ে পড়বে।

সিএনএন বলছে, মহামারী চলাকালীন নিজস্ব কনটেন্ট লাইব্রেরিকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা বাড়িয়েছে মাইক্রোসফট। ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর আরেক শীর্ষস্থানীয় গেইমি নির্মাতা ‘বেথেসডা সফটওয়ার্কস’-এর মূল প্রতিষ্ঠান ‘জেনিম্যাক্স’ কিনে নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ‘এল্ডার স্ক্রোলস’, ‘ফলআউট’ এবং ‘ডুম’ এর মতো সমালোচক সমাদৃত টাইটলেগুলো গেছে উইন্ডোজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির অধীনে।

হার্ডওয়্যারের বিবেচনায় কনসোল বাজারে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স সিরিজ এক্স-এর তুলনায় এখনো বিক্রি বেশি সনি’র প্লেস্টেশন ৫-এর। কিন্তু, মাইক্রোসফটের ‘গেইম প্লাস’ ক্লাউড সাবস্ক্রিশন সেবার মতো কোনো সেবা নেই সনি’র। আড়াই কোটির বেশি ‘গেইম পাস’ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে মাইক্রোসফটের। সেবাটির পিসি এবং কনসোল সংস্করণে অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ডের যতো বেশি সম্ভব গেইম শিগগিরই যোগ করার কথা জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে কনসোল কেন্দ্রিক গেইমিংয়ের সীমাবদ্ধতাগুলোর সম্পর্কে সনি অবহিত আছে; কিন্তু ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে বড় বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে হবে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। সব মিলিয়ে সনি’র ব্যবসা কৌশল বেশ রক্ষণশীল বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মতো অন্যান্য প্রকল্পে জোর দিতে গিয়ে গেইমিং খাতটি হয়তো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না– এমনটাও আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।