এবার টিকটকের ভাবনাতেও ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ সেবা

সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে গ্রাহক সেবা বা ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করার খবর জানিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই একই পথে হাঁটার খবর নিশ্চিত করেছে হালের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টিকটক।

বৃহস্পতিবার ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ সেবা সমর্থনের প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চলছে বলে নিশ্চিত করেছে টিকটক। এই সেবায় নিজস্ব কনটেন্টের দর্শনী হিসেবে দর্শকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবেন কনটেন্ট নির্মাতারা। তবে, পরীক্ষামূলক ফিচারটি কবে নাগাদ সকল নির্মাতার নাগালে আসবে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে কোন নির্মাতারা অংশ নিচ্ছেন, বা এর লেনদেন কাঠামো কেমন হবে, সে প্রসঙ্গে মুখ খোলেনি টিকটক কর্তৃপক্ষ।

টিকটক পেইড সাবস্ক্রিপশন নিয়ে “পরীক্ষা চালাচ্ছে” বলে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জকে পাঠানো এক ইমেইলে নিশ্চিত করেছেন টিকটক মুখপাত্র জ্যাকারি কাইজার। টিকটক “সবসময়েই নিজস্ব কমিউনিটিতে আরো মূল্য যোগ করার এবং টিকটকের অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার নতুন উপায় নিয়ে ভাবছে”-- দাবি ওই মুখপাত্রের। 

ফিচারটি চালু হলে নিজস্ব কনটেন্টের আর্থিক মূল্যায়নের নতুন প্রক্রিয়া পাবেন নির্মাতারা। অল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরীক্ষা চালানোর পর গেল বছরের ডিসেম্বরে নিজস্ব ‘ক্রিয়েটর নেক্সট হাব’ এবং ‘টিপিং’ ফিচার চালু করেছে টিকটক। দুটি ফিচার থেকেই আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কনটেন্ট নির্মাতাদের।

তবে, ভার্জ বলছে, টিকটক নিজস্ব ব্যবসা কাঠামোতে ঠিক কীভাবে সরাসরি নির্মাতাদের সঙ্গে লেনদেনের ফিচার যোগ করবে সেই বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। বাজারের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপরীতে টিকটককে সাফল্য এনে দিয়েছে এর অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর ‘ফর ইউ’ পেইজে নতুন নতুন কনটেন্ট নিয়ে আসে অ্যালগরিদমটি। ভার্জ বলছে, নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানো ও তাদের গ্রাহকে পরিণত করার জন্য এই প্রচার কৌশলটি কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।

তবে, নির্মাতারা যদি ‘পেইড সাবস্ক্রাইবার’দের জন্য তাদের সেরা কনটেন্টগুলো আলাদা করে রাখেন তাহলে অ্যালগরিদমের অংশ হবে না ওই কনটেন্ট। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সাবস্ক্রাইবার নন এমন ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাবে না নির্মাতার সেরা কাজগুলো, ফলে সাবস্ক্রিপশনে আগ্রহী নাও হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

এই জটিলতার ভুক্তভোগী টিকটক একা নয়। কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের আয়ের সুযোগ করে দিতে নানা কৌশল নিয়ে ভাবছে বাজারের প্রায় সবগুলো সামাজিক মাধ্যম এবং একই জটিলতার মুখে পড়ছে সবগুলো প্রতিষ্ঠান।