জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ: কে যাবে স্টকহোমের বিশ্ব পর্বে?

‘বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ-২০২২’ এর চূড়ান্ত পর্ব আয়োজিত হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। এ আয়োজন থেকে শীর্ষ প্রকল্প অংশ নেবে স্টকহোমে অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক পর্বে।

বিশ্বজুড়ে পানি বিষয়ক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সমাধানের লক্ষ্যে তরুণদের সম্পৃক্ত করার এ আয়োজন শুরু হয় ১৯৯৭ সাল থেকে। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হয়। বাংলাদেশে এটি ছিল অষ্টম আয়োজন।

‘আজকের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদান, আগামীর পানির উন্নয়ন সাধন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার বুয়েটের আইটিএন সেমিনার রুমে গোটা দেশ থেকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা দশটি দল ফাইনাল রাউন্ডে সমবেত হয়।

এ রাউন্ডে মনোনীত প্রতিযোগিরা ভিজ্যুয়াল পোস্টার উপস্থাপন করে এবং পিচিং রাউন্ডে অংশ নেয়।

এ প্রতিযোগিতায় পানি বিষয়ক সমস্যায় একজন প্রতিযোগীর প্রস্তাবিত সম্ভাব্য টেকসই, ব্যতিক্রমী, আর্থিকভাবে লাভজনক সমাধান আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বিজয়ী বাছাই করার কথা জানিয়েছে এ প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বের আয়োজক হাউস অফ ভলান্টিয়ার্স।

“১৫-২০ বছর বয়সী তরুণদের চিন্তাচেতনার প্রকাশ ঘটানো এবং বাস্তবিক অর্থে এর প্রতিফলন ঘটানোই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।”

প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে অগাস্টে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিতব্য 'স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজে' অংশ নেবে।

গত বছর ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতাটির ৮ম আসরের উদ্বোধনের পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যপক সাড়া মেলার কথা জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর একুশটি প্রজেক্ট পেপার থেকে ১০টি চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।

জুরি সদস্য ড. মহিদুস সামাদ খান প্রতিযোগীদের সম্পর্কে বলেন, “যত সময় যাচ্ছে, অংশগ্রহণকারীরা ততই শক্তিশালী আইডিয়া উপস্থাপন করছে।”

“কে ভালো করছে না তা নির্ধারণ করাই আজকে বিচারকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।”

ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের প্রতিনিধি মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম আয়োজন সম্পর্কে বলেন, “যদি সম্ভব হত তবে আমরা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সুইডেনে আমন্ত্রণ জানাতাম। কারণ, তাদের উপস্থাপিত আইডিয়াগুলোর মধ্যে কোনটিই গুরুত্বহীন নয়।”

প্রতিযোগিতাটির বিচারকার্য ও পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত প্যানেলে সদস্য হিসেবে ছিলেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও আইটিএন পরিচালক ড. তানভীর আহমেদ, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস সারওয়ার, রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বেক্সিমকো হেলথ এন্ড পিপিই’র নির্বাহী পরিচালক ড. মহিদুস সামাদ খান, ওয়াটারএইড বাংলাদেশে ওয়াশ প্রকল্পের কারিগরি উপদেষ্টা মো. তাহমিদুল ইসলাম, এজেন্স ফ্র‍্যাঞ্চাইজ দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি)-এর প্রকল্প কর্মকর্তা সুমন কান্তি নাথ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াশ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার এবং ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মার্টিনেজ বেক্সট্রম।

এ প্রতিযোগিতায় সহযোগী সংগঠক হিসেবে ছিল ওয়াটার-এইড বাংলাদেশ ও স্পন্সর ছিলো নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড। কারিগরি, প্রযুক্তিগত এবং গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলো যথাক্রমে এসটেক্স, মিয়াকি এবং বিডিনিউজ২৪ ডটকম।