শক্তি ব্যবহার কমাতে ‘লিকুইড কুলিং’য়ে যাচ্ছে এনভিডিয়া

ছবি: এনভিডিয়া
বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে শক্তির ব্যবহার কমাতে নতুন পরিকল্পনা করছে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। ‘কম্পিউটেক্স ২০২২’ আয়োজনে নিজেদের ‘এ১০০’ গ্রাফিক্স কার্ডের ‘লিকুইড-কুল’ সংস্করণ আনার ঘোষণা দিয়েছে এই নির্মাতা।

এনভিডিয়া জানিয়েছে, ‘এয়ার-কুল’ সংস্করণের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম শক্তি খরচ হবে নতুন সংস্করণে। এটি কেবল পরীক্ষামূলক সংস্করণ নয়, বরং সামনে আরও বেশি লিকুইড-কুল সার্ভার কার্ড আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

অনেক সময় গাড়ির ভেতরের অংশ ঠাণ্ডা রাখতে হয় সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘ইন-কার সিস্টেম’-এর মতো অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনেও এই প্রযুক্তি আনার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও সম্প্রতি চিপ গরম হয়ে যাওয়ার কারণে টেসলার গাড়ি ডেকে পাঠানোর খবরেই অনুমান করা সম্ভব লিকুইড কুলিং ব্যবস্থা থাকার পরও চিপের তাপ সামলানো কতোটা কঠিন।

এনভিডিয়া বলছে, ডেটা সেন্টারে শক্তির খরচ কমানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ, এটি জটিল গণনার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

গ্রাফিক্স চিপের এই শীর্ষ নির্মাতা আরও বলছে, ডেটা সেন্টারের পেছনে যেখানে বৈশ্বিক বিদ্যুতের এক শতাংশের বেশি খরচ হতো, এই কুলিং ব্যবস্থার কারণেই তা ৪০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। এই ব্যয়কে প্রায় এক তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনতে পারলে, সেটি বিশাল এক অর্জন হবে।

গ্রাফিক্স কার্ড এই সমীকরণের কেবল একটি অংশ। সিপিইউ স্টোরেজ এবং অন্যান্য নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামেও অনেক শক্তি খরচ হয়, এগুলোকে শীতল রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ।

লিকুইড কুলিংয়ের মাধ্যমে জিপিইউ-চালিত ব্যবস্থা ‘এআই’ এবং অন্যান্য উচ্চ-মাত্রার কাজে সিপিইউ সার্ভার থেকে তুলনামূলক দক্ষভাবে কাজ করবে বলে দাবি করছে এনভিডিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার কম্পিউটার, কাস্টম গেইমিং এমনকি ফোনেও লিকুইড কুলিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে, বাতাসের তুলনায় তরল বেশি তাপ শোষণ করতে পারে।

শক্তি দক্ষতার পাশাপাশি ‘এয়ার-কুলড’ কার্ডের তুলনায় কম জায়গা খরচ হয় ‘লিকুইড-কুলড’ কার্ডে। শক্তি ব্যবহার কমাতে এনভিডিয়ার লিকুইড কুলিংয়ের পদক্ষেপটি এমন সময় এসেছে, যখন অনেক প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব সার্ভারে শক্তির খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কার্বন নিঃসরণ এবং অন্যান্য দূষণে কেবল ডেটা সেন্টার একমাত্র সূত্র নয়। বরং, ডেটা সেন্টার এসব  দূষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সার্ভারকে পুরোপুরি তরলে রূপান্তরের একটি পরীক্ষা করেছিল। এমনকি শক্তি এবং পানির ব্যবহার কমাতে অনেক ডেটা সেন্টারই মহাসাগরের পনির নিচে নিয়ে গিয়েছিল এই ক্লাউডভিত্তিক সেবাদাতা।

এনভিডিয়ার প্রস্তাবিত লিকুইড-কুলিং ব্যবস্থা ডেটা সেন্টারের জন্য অপরিহার্য নাও হতে পারে। কারণ, এটি ডেটা সার্ভার মহাসাগরে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। যদিও মাইক্রোসফটের পরীক্ষাকে এখন পর্যন্ত সফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রচলিত সার্ভারের জন্য নিজস্ব ‘লিকুইড-কুলড’ জিপিইউর প্রচারণা ভালোভাবেই করছে এনভিডিয়া। তবে, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের গেইম-কেন্দ্রিক গ্রাফিক্স কার্ডে লিকুইড-কুলিং ব্যবস্থা এনে প্রচারণাকে আরও এগিয়ে নেবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

‘এএসরক’, ‘আসুস’ এবং ‘সুপারমাইক্রো’র মতো প্রতিষ্ঠান তাদের সার্ভারে লিকুইড-কুলড কার্ড যোগ করবে এ বছর শেষ নাগাদ। ‘পিসিআইই এ১০০’ কার্ড আসার কথা বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে। ২০২৩ সালের শুরুতে সদ্য ঘোষিত এর পরবর্তী সংস্করণ ‘এইচ১০০’ কার্ড আসার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভার্জ।