রুশ ধনকুবেরদের জন্য ভারতীয় হ্যাকার ব্যবহার ইসরাইলের

রাশিয়ার ধনকুবেরদের পক্ষে নজরদারির কাজে ভারতীয় হ্যাকারদের ব্যবহার করছিল ইসরাইলের এক বেসরকারি গোয়েন্দা। আভিরাম আজারি নামের ওই গোয়েন্দা বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে আছেন।

ইসরাইলের ওই গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিক স্কট স্টেডম্যান নিউ ইয়র্কের এক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বুধবার।

“রাশিয়ার ধনকুবেরদের জন্য নজর রাখার এবং সাইবার বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার কাজ করছিলেন হাজতে থাকা বেসরকারি গোয়েন্দা আভিরাম আজারি।” --বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ও গোপন সূত্রের উল্লেখ করে বলেছেন স্টেডম্যান।

স্টেডম্যান ঘোষণায় আরও বলেন, রাশিয়ার ‘উদ্বিগ্ন’ ধনকুবেরদের একজন হচ্ছেন অ্যালুমিনিয়াম টাইকুন ওলেগ দেরিপাস্কা, যিনি অস্ট্রিয়ায় এক বাণিজ্যিক বিবাদ মেটাতে আজারিকে পরোক্ষভাবে নিয়োগ করেছিলেন।

দেরিপাস্কার মুখপাত্র রয়টার্সকে এক ইমেইল বার্তায় বলেছেন, এসব অভিযোগ ‘পুরোপুরি অসত্য’। এ ছাড়া, গত মাসে হ্যাকিং ষড়যন্ত্র এবং পরিচয় চুরির এক পৃথক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া আজারির একজন আইনজীবি রয়টার্সের জিজ্ঞাসার কোনো জবাব দেননি।

‎স্টেডম্যানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে ব্রিটিশ-ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরামর্শক ওয়াল্টার সোরিয়ানোর যুক্তরাজ্যে দায়ের করা এক মানহানির মামলায় আদালত যেন আজারির ওপর সমন জারি করেন তার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ‎স্টেডম্যান এই বক্তব্য দেন।

নিজস্ব প্রকাশনা ‘ফরেনসিক নিউজ’-এর বেশ কিছু প্রতিবেদনে স্টেডম্যান দাবি করেছেন, রাশিয়ার ধনকুবের এবং নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন সরিয়ানো।

সরিয়ানো সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদনের বিপরীতে মানহানির মামলা করেন। ওই মামলায় স্টেডম্যানের বিরুদ্ধে মানহানিমূলক প্রচারণা, গোপনতা লঙ্ঘন এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

রাশিয়ার একাধিক ধনকুবেরের জন্য সাইবার-সম্পর্কিত প্রকল্পে আজারি এবং সরিয়ানো যে একসঙ্গে কাজ করতেন, সেটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ ছিল। – রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন স্টেডম্যান।

আজারি বর্তমানে ব্রুকলিনের ফেডারেল কারাগারে বন্দী আছেন। সেখানে তিনি অপর এক সাইবার অপরাধের মামলায় সাজা ঘোষণার অপেক্ষা করছেন।

ক্ষমতাবান ক্লায়েন্টদের পক্ষে আজারির ভারতীয় হ্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘বেলট্রক্স’ ভাড়া করার অভিযোগ নিয়ে গত বছরই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রয়টার্স।

বেলট্রক্স-এর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের সাহায্যে ফেইসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। এই প্রসঙ্গে রয়টার্স প্রতিষ্ঠানটির মন্তব্য জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।